হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

‘পেছন থেকে ছুরি মারা’ উইটকফ–কুশনারের সঙ্গে বসতে চায় না ইরান, বিকল্প কে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

জেনেভায় ইরানের ইস্যুতে আলোচনার সময় ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। সঙ্গে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। ছবি: এএফপি

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’র অভিযোগ তুলেছে তেহরান। গালফ অঞ্চলের সূত্র ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে আলোচনার কয়েক ঘণ্টা পর তেহরানে সামরিক হামলা চালানো হয়। এ কারণে ইরান আর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত উইটকফ এবং ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা কুশনারের সঙ্গে বসতে রাজি নয়।

সংঘাতের সময় প্রায় নীরব থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখন নতুন আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী হতে পারেন বলে আলোচনা চলছে। এই সপ্তাহের শেষ দিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নতুন আলোচনা হতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় একটি দেশের সূত্র বলেছে, ইরান ভ্যান্সকে বেশি পছন্দ করছে। তারা কুশনার ও উইটকফের সঙ্গে কাজ করতে চায় না, কারণ তাদের বিশ্বাস—ওই দুজন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান মনে করে—ভ্যান্স কথা রাখবেন। পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাঁর পদমর্যাদাও যথাযথ বলে মনে করা হচ্ছে। ভ্যান্সকে সাধারণভাবে ট্রাম্পের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে সংশয়ী হিসেবে দেখা হয়।

নতুন মার্কিন আলোচক দলের নেতৃত্বে ভ্যান্সের সম্ভাব্য ভূমিকা থেকে বোঝা যাচ্ছে, হোয়াইট হাউস অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে এবং উত্তেজনা কমাতে চায়। তবে যুদ্ধ শেষ করার কৌশল এখনো স্পষ্ট নয়। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় একাধিক ব্যক্তি অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ভ্যান্সও আছেন। তিনি বলেন, ‘উইটকফ ও কুশনার (কাজ) করছেন, পাশাপাশি মার্কো, জেডি—অনেকেই কাজ করছেন।’

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তেহরান ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি দলের ওপর আস্থা হারিয়েছে। কুশনার ও উইটকফ সংঘাত শেষ করতে সত্যিই আগ্রহী কি না, তা নিয়েও তাদের সন্দেহ আছে। জেনেভায় আলোচনা শেষ হওয়ার দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হন। ওই আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকটি গালফ দেশ তখন মনে করেছিল, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে একটি সমঝোতা সম্ভব।

ইসলামাবাদে আলোচনা হবে কি না এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মঙ্গলবার বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা আয়োজন করতে পাকিস্তান ‘প্রস্তুত এবং সম্মানিত’ বোধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখন পর্যন্ত আলোচনা পরোক্ষভাবে হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে। তবুও ট্রাম্প সোমবার দাবি করেন, ইতিমধ্যেই শাসন পরিবর্তন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আসলে শাসন পরিবর্তন হয়ে গেছে। কারণ এখনকার নেতারা সম্পূর্ণ আলাদা, যারা আগে সমস্যাগুলো তৈরি করেছিল।’ তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ জিতে গেছে। সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুদ্ধ জিতে গেছি। কেবল ভুয়া সংবাদমাধ্যমই এটা চালিয়ে যেতে চায়।’

যুদ্ধবিরতির পথে ট্রাম্প, উদ্বেগ বাড়ছে ইসরায়েলে

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান

সংলাপের পটভূমি তৈরিতে কাজ করছে পাকিস্তানসহ কিছু বন্ধুরাষ্ট্র, জানালেন ইরানি রাষ্ট্রদূত

আলী লারিজানির স্থলে বাঘের জোলঘাদরের নিয়োগ কেন গুরুত্বপূর্ণ, সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ

ট্রাম্প নিজের সঙ্গেই আলোচনা করছেন, আমাদের সঙ্গে নয়: ইরান

লেবাননের সার্বভৌমত্বে হাত দেওয়া যাবে না—ইসরায়েলকে কানাডা

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প ও ইরানের বিপরীত অবস্থান, কে সত্য বলছে

যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ১৫ দফার বিপরীতে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত

যুদ্ধ শেষ করতে ইরানকে ১৫ দফার পরিকল্পনা দিয়েছেন ট্রাম্প, কী আছে এতে

তৃতীয়বার ট্রাম্পের ‘ধোঁকায় বোকা হতে চায় না’ ইরান