রাশিয়ার ধনকুবের আলেক্সি মর্দাশভের মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল সুপারইয়ট (প্রমোদতরি) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের কাছে সূত্রটি দাবি করেছে, দুবাইয়ে রক্ষণাবেক্ষণ শেষে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের বহুতল ওই প্রমোদতরি গত শনিবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। ফেব্রুয়ারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে কৌশলগত এই নৌপথে চলাচল কঠোরভাবে সীমিত। এই অবস্থায় রুশ প্রমোদতরিটি কীভাবে হরমুজ পাড়ি দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তবে ‘নর্ড’ (Nord) নামের রুশ পতাকাবাহী ওই প্রমোদতরি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের নিয়ম মেনে অনুমোদিত রুটে চলাচল করেছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী—ইরান এই ইয়টের চলাচলে বাধা দেয়নি, কারণ, এটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের বেসামরিক জাহাজ এবং শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রা করছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও কোনো প্রশ্ন তোলেনি। কারণ, জাহাজটি ইরানের কোনো বন্দরে নোঙর ফেলেনি এবং ইরানের সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সংযোগ নেই।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে পার্সিয়ান গালফের প্রবেশমুখে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি জাহাজ চলাচল করছে। এগুলো মূলত বাণিজ্যিক জাহাজ। অথচ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি তেলবাহী জাহাজ এই পথে যাতায়াত করত। সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্র ধরে বর্তমানে ইরানের বন্দরগুলোয় অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শান্তি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পাকিস্তান ও ওমানে আলোচনা শেষে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘এলএসইজি’ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের পর গত রোববার থেকে নর্ড প্রমোদতরিটিকে ওমান উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে।