ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক অভিযানে এক ডজনের বেশি মানববিহীন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন নিখোঁজ বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে তাঁরা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
কর্মকর্তারা জানান, এসব ড্রোনের কিছু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভূপাতিত হয়েছে, আবার কিছু ড্রোন মাটিতে অবস্থানরত অবস্থায় শত্রুপক্ষের গোলাবর্ষণে ধ্বংস হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির এই রিপার ড্রোনগুলো মূলত নজরদারি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হলেও প্রয়োজনে এগুলোতে অস্ত্রও সংযোজনও করা যায়।
বিশেষ করে, এই ড্রোনগুলোর ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। ফলে এগুলো একাধারে নজরদারি ও হামলা—দুই ধরনের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত সংখ্যক রিপার ড্রোন হারানো থেকে বোঝা যায়, ইরান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এই ধরনের ড্রোন মোতায়েন করেছে। কারণ একটি অভিযানে এত বেশি সংখ্যক ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, বৃহৎ পরিসরে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই ড্রোন হারানোর খবরটি প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
উল্লেখ্য, মার্কিন বিমানবাহিনী ২০২০ সালে রিপার ড্রোন কেনার জন্য সর্বশেষ পাঁচ বছরের চুক্তি ঘোষণা করেছিল। ড্রোনগুলো তৈরি করে ‘জেনারেল অ্যাটোমিকস’। প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫৭৫টি ড্রোন নির্মাণের পর গত বছর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়।
কোম্পানিটির মুখপাত্র সি মার্ক ব্রিঙ্কলির তথ্য অনুযায়ী—সর্বশেষ বিক্রয়ে চারটি ড্রোনের একটি ব্যাচের প্রতিটির দাম ছিল প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার।