হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

বাগদাদির হাতেই ধর্ষিত ও নির্যাতিত হওয়ার বর্ণনা দিলেন ইয়াজিদি নারীরা

সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়ার একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইএসআইএস বন্দীশিবিরের বিভীষিকা নিয়ে মুখ খুলেছেন কয়েকজন ইয়াজিদি নারী। শুধু তাই নয়, তাঁরা আইএসআইএস-এর সাবেক শীর্ষ নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির বিরুদ্ধেই ধর্ষণ এবং নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। আজ শুক্র এবং আগামীকাল শনিবার দুই পর্বের ওই সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করবে আল-অ্যারাবিয়া টেলিভিশন। 

এ বিষয়ে আল-অ্যারাবিয়া অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগেই আবু বকর আল-বাগদাদির স্ত্রীদের মধ্যে অন্যতম আসমা মোহাম্মদ সংবাদমাধ্যমটিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সে সময় তিনি এবং তাঁর নিহত স্বামী ইয়াজিদি নারীদের ওপর নির্যাতন করেছেন—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন আসমা। দাবি করেন, বন্দী নারীদের সঙ্গে তাঁরা খুব ভালো ব্যবহার করেছেন। তবে আসমার এমন দাবির পরই তাঁর স্বামীর নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলতে এগিয়ে এসেছেন ইয়াজিদি নারীরা। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া ইয়াজিদি নারীরা বাগদাদির স্ত্রীর দাবির সরাসরি বিরোধিতা করেছেন এবং জানিয়েছেন—বন্দীদশায় নির্মম আচরণের পাশাপাশি তাঁদেরকে গনিমতের মাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। 

সাক্ষাৎকারে বন্দীশিবির থেকে বেঁচে ফেরা ইয়াজিদি নারী আশ্বয়াক হাজি হামিদ আইএস যোদ্ধাদের হাতে অপহৃত হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। আইএস যোদ্ধারা তাঁর ৯ বছর বয়সী বোনকেও অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। 

কীভাবে ইয়াজিদি নারীদেরকে স্বয়ং বাগদাদিই ধর্ষণ করেছেন এবং পরে অন্য যোদ্ধাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন তারও বর্ণনা দিয়েছেন আশ্বয়াক। বাগদাদির স্ত্রীদের নির্মম নির্যাতন এবং আচরণের বিষয়েও সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি। 

আশ্বয়াক বলেছেন, ‘আবু বকর আল-বাগদাদি প্রত্যেক মেয়েকেই ধর্ষণ করেছেন, পরে অন্যদের কাছে তাঁদের বিক্রি করে দিয়েছেন।’ 

সাক্ষাৎকারে হামিদ তালাও নামে এক ইয়াজিদি পুরুষও অংশ নেন। আইএস যোদ্ধারা মাত্র ১০ বছর বয়সী তাঁর যমজ দুই কন্যাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে বিপুল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চোরাকারবারিদের সহায়তায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সমান অর্থ খরচ করে বিধ্বস্ত কন্যাদের ফিরিয়ে এনেছিলেন তালাও। 

অন্যদিকে তিন মাস বন্দী থাকার পর আইএস যোদ্ধাদের কাছ থেকে পালিয়ে এসেছিলেন আশ্বয়াক। বুদ্ধি খাটিয়ে আরও কয়েক নারী সহ তিনি অসুস্থতার ভান করেছিলেন। পরে তাঁদেরকে ইরাকের নিনেভেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে ঘুমের ওষুধ পেয়েছিলেন তাঁরা। সেগুলোই প্রহরায় থাকা আইএস যোদ্ধাদের খাবারে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। খাবার খেয়ে যোদ্ধারা তন্দ্রাচ্ছন্ন ও ঘুমিয়ে পড়লে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পড়েন নারীরা এবং শিঞ্জর পর্বত পাড়ি দিয়ে পালিয়ে আসেন। 

বন্দীশিবির থেকে বেঁচে ফেরা সোয়াদ হামিদ নামে আরেক ইয়াজিদি নারী জানিয়েছেন, বাগদাদির ধর্ষণের পর নারীদেরকে বিক্রির কাজটি করত মূলত তাঁর স্ত্রীরা। বাগদাদির স্ত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও হতো—কে কত বেশি দামে নারীদের বিক্রি করেছেন। 

শিরিন খালাফ নামে বেঁচে ফেরা আরেক নারী জানিয়েছেন, অপহরণ করা নারীদেরকে মাটির নিচে সুরক্ষিত কারাগারে রাখা হতো। বন্দীদশায় থাকা অবস্থায় তিনি দেখেছেন—শিশুদেরকে নিয়মিত মাদকসেবন করিয়ে আত্মঘাতী হামলায় উদ্বুদ্ধ করত যোদ্ধারা। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই বেহেশতের স্বপ্ন দেখানো হতো তাদের। 

 ২০১৪ সাল থেকে আইএসআইএস-এর নেতৃত্ব দিতে শুরু করেছিলেন আবু বকর আল-বাগদাদি। তাঁর নেতৃত্বে ইরাকের বেশির ভাগ অঞ্চল এবং সিরিয়ার কিছু অংশে আধিপত্য স্থাপন করেছিল এই বাহিনী। পরে ২০১৭ সালে প্রথমে ইরাক ও ২০১৯ সালের মধ্যে সিরিয়া থেকে আইএস যোদ্ধাদের বিতাড়িত করে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি এলাকায় তাদের সেনাদের অভিযানে বাগদাদি প্রাণ হারিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের হুমকির কাছে মাথানত করবে না ইরান: খামেনি

ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের সংলাপে ডাকছে সৌদি আরব

ভাঙনের পথে ইয়েমেন, দক্ষিণাঞ্চলে গণভোটের ঘোষণা বিদ্রোহীদের

ট্রাম্পকে ‘শয়তান’ আখ্যা দিল ইরান, ষড়যন্ত্র ভন্ডুলের দাবি

সৌদি আরবের হামলায় আমিরাতপন্থী ৭ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত, ইয়েমেনে নতুন উত্তেজনা

ইরানের গণ-অভ্যুত্থান ইতিহাসকে এগিয়ে নেবে—স্বর্ণপামজয়ী জাফর পানাহি

অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল ইরান বিক্ষোভে উত্তাল, সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬

অর্থনৈতিক মন্দায় বিক্ষুব্ধ ইরান, জোরালো হচ্ছে সরকার পরিবর্তনের দাবি

ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট, বিক্ষোভ ও সহিংসতায় নিহত ১

গত বছর দেশ ছেড়ে চলে গেছে ৬৯ হাজার ইসরায়েলি