লেবাননে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলাকে ‘পরিকল্পিত’ এবং ‘ইচ্ছাকৃত’ বলে অভিহিত করেছে রাশিয়া। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রুশ সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে এই আক্রমণ কোনোভাবেই দুর্ঘটনা হতে পারে না।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক টেলিগ্রাম বার্তায় বলেন, ‘গাজায় ইতিপূর্বে ২০০ সাংবাদিক নিহতের ঘটনা বিবেচনা করলে, আজকের এই আক্রমণকে কোনোভাবেই আকস্মিক বা ভুলবশত ঘটা কোনো ঘটনা বলা চলে না।’ তিনি সরাসরি ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করলেও ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সামরিক স্থাপনায় আঘাত করেনি, বরং সরাসরি সংবাদ সংগ্রহের স্থানে আঘাত হেনেছে।’
আরটির ভিডিও এজেন্সি ‘রাপ্টলি’ (Ruptly) একটি ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে প্রতিবেদক স্টিভ সুইনি ‘প্রেস’ লেখা বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরে সরাসরি সম্প্রচারে যুক্ত ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তাঁর মাত্র কয়েক মিটার পেছনে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং কালো ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
রাপ্টলি জানিয়েছে, স্টিভ সুইনি এবং তাঁর ক্যামেরাম্যান আলী রিদা উভয়েই এই হামলায় আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
লেবাননে নিযুক্ত রুশ দূতাবাস এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে। দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।’ তারা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বরাবরের মতোই দাবি করেছে, তারা কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তবে এই নির্দিষ্ট হামলার ভিডিও প্রমাণ এবং রাশিয়ার কড়া অবস্থান মস্কো ও তেল আবিবের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, আরটি (সাবেক রাশিয়া টুডে) হলো রাশিয়া সরকার নিয়ন্ত্রিত একটি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক।