ইরান হরমুজ প্রণালিতে নির্ধারিত একটি রুটের মাধ্যমে সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা প্রণয়ন করেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় দেওয়া ‘বিশেষায়িত সেবা’র জন্য জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা এই তথ্য জানিয়েছেন।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী পক্ষগুলোই এর সুবিধা পাবে।’
তিনি জানান, তেহরান শিগগিরই এই পরিকল্পনা প্রকাশ করবে। আজিজি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘তথাকথিত ফ্রিডম প্রজেক্টের পরিচালকদের জন্য এই রুট বন্ধ থাকবে।’ অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ হরমুজ উন্মুক্ত করে ওয়াশিংটন পরিচালিত অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমে’ যেসব দেশ অংশ নিয়েছিল তাদের জন্য এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা স্থায়ী কোনো সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়। এরপর ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামুদ্রিক চলাচলকে লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ কার্যকর করে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মে মাসের শুরুতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ইরানের পূর্বানুমোদনের দাবি উপেক্ষা করেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করাবে। তবে পরে তিনি এই উদ্যোগ স্থগিতের ঘোষণা দেন।