যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল এবং এর জবাব দেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে হঠাৎ হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ ইরানে কয়েকটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করা নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মার্কিন পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে ভোররাতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও একটি ড্রোন ও একটি যুদ্ধবিমানের দিকে বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট গুলি ছুড়েছে বলে জানানো হয়। যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে বার্ষিক হজ উপলক্ষে প্রকাশিত এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত মন্তব্যে বলা হয়, ‘সময়কে পেছনে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না এবং এই অঞ্চলের দেশ ও ভূখণ্ড আর মার্কিন ঘাঁটির ঢাল হয়ে থাকবে না।’
খামেনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে ‘‘আমেরিকার মৃত্যু’’ এবং ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ হবে ইসলামি জাতি ও বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের, বিশেষ করে তরুণদের স্লোগান।’ তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।