ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার জেরে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন—পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই মূল্য ১২০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে।
আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আমিরাতের সময় বিকেল ৩টা ৫৩ মিনিটে ব্র্যান্ট ক্রুডের দাম ৭.১১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮৪.৭২ ডলারে।
খামেনিকে হত্যার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ রাখার পাশাপাশি বিকল্প রপ্তানি পথেও আঘাত হেনেছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমিরাতের পোর্ট অব ফুজাইরা জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক এবং ওমানের ভারত মহাসাগরমুখী দুকম বন্দরে একটি ফুয়েল ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার সৌদি আরবের বড় তেল শোধনাগার ‘রাস তানুরা’ শোধনাগারেও হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরান।
এদিকে কাতারের বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্ল্যান্ট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘কাতার এনার্জি’ জানিয়েছে, তারা সব পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনও স্থগিত করছে। এই প্ল্যান্ট বিশ্ব এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দেয়।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বহনকারী হরমুজ প্রণালিতে এখন জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে গেছে। প্রায় ২ কোটি ব্যারেল পরিশোধিত তেল ও পণ্য প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যেত। কিন্তু ইরানের বিপ্লবী গার্ড এই নৌপথ এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে। ফলে শিপিং কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত ‘ওয়ার রিস্ক’ চার্জ আরোপ করছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ব্রেন্টের ক্রুডের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে সীমিত সংঘাত হলে দাম সাময়িক বাড়ার পর আবার ৭০ ডলারের আশপাশে নেমে আসতে পারে। ফিচ সলিউশন্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএমআই জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও তারা ২০২৬ সালের জন্য ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার করে রাখছে। কারণ বাজারে এখনো সরবরাহ তুলনামূলক বেশি রয়েছে।