হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পকে নির্বোধ আখ্যা দিয়ে আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্রে লিখল ‘এই আমাদের উপহার, গ্রহণ করুন’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্রে লিখেছে ‘এই আমাদের উপহার, হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করুন।’ ছবি: সংগৃহীত

ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তারা ট্রাম্পের সেই দাবিকেও উপহাস করেছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, একটি চুক্তি খুব কাছাকাছি। এই পদক্ষেপের পর হোয়াইট হাউস সতর্ক করে বলেছে, ইরান যদি শর্ত না মানে তবে ট্রাম্প দেশটির ওপর ‘নরক নামিয়ে আনবেন।’ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে যে ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, সেখানে পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্রের পরিধির সীমা নির্ধারণ এবং হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। ইরান ১৫ দফা দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানায়, এতে সংঘাতে শক্তির ভারসাম্য প্রতিফলিত হয়নি। এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরান যখন সিদ্ধান্ত নেবে এবং তার নিজস্ব শর্ত পূরণ হবে, তখনই যুদ্ধ শেষ হবে।’

এর আগে বুধবার ইরান যুদ্ধ শেষের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে এমন দাবি অস্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রকে বলে, ‘আপনারা নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা করছেন।’ পরে একই দিনে ট্রাম্পের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপের পথ এখনো খোলা রয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান যদি বর্তমান বাস্তবতা মেনে না নেয়, যদি তারা বুঝতে ব্যর্থ হয় যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে...প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করবেন যেন তাদের এমনভাবে আঘাত করা হয়, যেভাবে আগে কখনো করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্লাফ দেন না এবং তিনি নরক নামিয়ে আনতে প্রস্তুত। ইরান যেন আর ভুল হিসাব না করে। তাদের শেষ ভুলের মূল্য দিতে হয়েছে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে।’

ট্রাম্প সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি পৃথক নৌ আভিযানিক দল পাঠিয়েছেন, যেখানে মেরিন সেনা রয়েছে, পাশাপাশি প্যারাট্রুপার মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সময়ে তিনি দাবি করেছেন, শান্তি আলোচনা ‘খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ’ হয়েছে। ট্রাম্পের পাঠানো মেরিন সেনারা আগামীকাল শুক্রবার ইরানের কাছাকাছি পৌঁছানোর কথা। একই সঙ্গে সেদিনই ট্রাম্পের দেওয়া ইরানি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পাঁচ দিনের সময়সীমাও শেষ হবে। এবং সেদিনই বৈশ্বিক শেয়ারবাজার সাপ্তাহিক ছুটিতে যাবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, যাঁকে সম্ভাব্য প্রধান আলোচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তিনি বলেছেন, ইরান এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ‘একটি আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের একটি দ্বীপ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের বাহিনী শত্রুর সব গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছে। তারা যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়, সেই আঞ্চলিক রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিরবচ্ছিন্ন ও অবিরাম হামলার লক্ষ্য হবে।’

এ সপ্তাহে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো ১৫ দফা পরিকল্পনাটি যুদ্ধ শুরুর আগে দেওয়া প্রস্তাবগুলোর তুলনায় আরও কঠোর বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, তারা তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থান থেকে আলোচনা করছে। কারণ, তারা সফলভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে পেরেছে। আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং প্রাথমিক মার্কিন আক্রমণ টিকে গেছে।

বিপরীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পাঁচটি পাল্টা দাবি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আগ্রাসন বন্ধ, যুদ্ধ পুনরায় শুরু না হওয়ার নিশ্চয়তা, ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের ‘কর্তৃত্ব’ স্বীকার। এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করা ইরানের স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার এবং এটি অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা। এটিকে অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে।’

ওই ইরানি কর্মকর্তা আরও বলেন, এসব শর্ত ‘ফেব্রুয়ারিতে জেনেভায় দ্বিতীয় দফা আলোচনায় তেহরান যে দাবিগুলো দিয়েছিল, তার সঙ্গে বাড়তি সংযোজন।’ আগের প্রস্তাবে ছিল দেশীয়ভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার স্বীকৃতি, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সম্ভাব্য আরও কিছু শর্ত, যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হবে তখনই যখন ইরান সিদ্ধান্ত নেবে, ট্রাম্প যখন এর সমাপ্তি কল্পনা করেন, তখন নয়।’

এদিকে গতকাল বুধবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রে লিখে দিয়েছে, ‘এটাই সেই উপহার, যা নির্বোধ ট্রাম্প বলেছিলেন।’ তারা ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে আরও বলেছে, ‘আমাদের এই উপহার হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করুন।’

এটি ছিল মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘উপহার’ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলব না সেই উপহার কী, তবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু’ এবং ইঙ্গিত দেন যে যুদ্ধ শেষের আলোচনায় ইতিবাচক সূচনা হয়েছে।

হরমুজে টোল আদায়ে আইন করছে ইরান, আরেক গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধের হুমকি

দ্বীপ দখলের পরিকল্পনাকারী ‘শত্রুর’ আঞ্চলিক মিত্রের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে আটকা ২ হাজার জাহাজ ও ২০ হাজার নাবিক: আইএমও

ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মৃত্যুদণ্ডের বিল চূড়ান্ত ভোটের পথে

ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে আরও ১৬৩ কর্মীকে সরিয়ে নিল রাশিয়া

ট্রাম্পের প্রস্তাব হাতে পেয়েছে ইরান, ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান

ইরানের পরাজয় না হওয়া মানে সৌদি আরবের ঘোর বিপদ আসন্ন

যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করল ইরান

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানে ট্রাম্পের ১৫ দফা, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কতটুকু

মার্কিন রণতরি আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের