ইরান এবার বিটকয়েনভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করেছে। সম্প্রতি তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে নতুন একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া প্রতিটি জাহাজকে ইরানের অনুমতি নিয়ে চলাচল করতে হবে।
ইরানের নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘পূর্ণ সমন্বয় ছাড়া’ কোনো জাহাজের চলাচল বৈধ বলে বিবেচিত হবে না। জাহাজগুলোকে একটি নির্দিষ্ট রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। একই সঙ্গে ‘হরমুজ সেফ’ নামে নতুন একটি সেবার আওতায় জাহাজ চলাচলের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে বিটকয়েনে বিমা ফি পরিশোধের পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এই পরিকল্পনা থেকে বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হতে পারে দেশটির। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি জায়ান্ট ‘অ্যাডনক’ (ADNOC)-এর প্রধান সুলতান আল জাবের সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি ‘কোনো শর্ত ছাড়াই’ আবারও খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যে যুদ্ধ ও হামলার কারণে হরমুজ অঞ্চলে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত কয়েক মাসে জাহাজে অন্তত ৩৮টি হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। এতে অনেক দেশ বিকল্প পথে তেল রপ্তানির চেষ্টা করছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ‘হরমুজ সেফ’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরব উপসাগর, হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ‘ক্রিপ্টোগ্রাফিকভাবে যাচাইকৃত বিমা’ দেওয়া হবে। তবে এটি মূলত ইরানি জাহাজ ও কার্গো মালিকদের জন্য তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সময়ে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, বৃহত্তর শান্তিচুক্তি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা হরমুজ প্রণালি আবারও পুরোপুরি খুলে দিতে পারে। তবে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।