ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের জন্য তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে এসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসলামি রীতি অনুযায়ী সাধারণত মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই দাফন সম্পন্ন করা হয়। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনে নিজ বাসভবনে হামলায় নিহত হওয়ার পর খামেনির জানাজা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। সে সময় ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কারণে অনুষ্ঠান আয়োজন বিলম্বিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) তেহরানের উপ-মেয়র মোহাম্মদ আমিন তাভাকোলি-জাদেহ জানান, তিন দিনের এই কর্মসূচির মধ্যে রাজধানী তেহরান ছাড়াও ধর্মীয় নগরী কোম এবং মাশহাদে শোকযাত্রা ও জনসমাগমের আয়োজন থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-এর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তেহরানে শেষকৃত্যের মূল অনুষ্ঠান অন্তত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলবে।
তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ প্রায় দুই কোটি মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। অপর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে খামেনির দাফন অনুষ্ঠিত হবে, যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২১ জুন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হতে পারে।
৮৬ বছর বয়সে নিহত হওয়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে তেহরানের রাস্তায় শোক, বিস্ময় এবং উদ্যাপনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি এখনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।