লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সমন্বিত হামলার কৌশল শুরু করেছে। এর মধ্যে ইসরায়েলে ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমা দিয়ে সুসংগত হামলার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি এক জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এমনটি দাবি করেছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ইসরায়েল মঙ্গলবার দাবি করেছে, ইরান গুচ্ছ বোমা নিক্ষেপ করছে। এই গুচ্ছ বোমা ইসরায়েলের চাপের মুখে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি জটিল এবং প্রাণঘাতী চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এই ওয়ারহেডগুলো বেশি উচ্চতায় বিস্ফোরিত হয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে ডজন ডজন ছোট ছোট বোমা (বোমলেট) ছড়িয়ে দেয়। এই ছোট বোমাগুলো, যা রাতে দেখতে অনেকটা কমলা রঙের আগুনের গোলার মতো লাগে, তা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন এবং এগুলো অত্যন্ত মারাত্মক বলে প্রমাণিত হয়েছে।
ফক্স নিউজের সংবাদদাতা নেট ফয় ইসরায়েল থেকে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অর্ধেকের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ, সেগুলোর অর্ধেকই গুচ্ছ বোমা।
বিশেষজ্ঞ মাইকেল জরুরি ভিত্তিতে বলেছেন, ‘ইরানের গুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অবশ্যই অপ্রচলিত অস্ত্রের ব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং এর বিপরীতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া উপযুক্ত হতে হবে।’
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স যখন হিজবুল্লাহর প্রস্তুতির কথা জানাচ্ছিল, ঠিক তখনই মাইকেল এই মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের গত যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য পূর্ণমাত্রার ইসরায়েলি আক্রমণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি দক্ষিণ লেবাননে তাদের আদি গেরিলা যুদ্ধ কৌশলে ফিরে যাচ্ছে।
হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘ছোট ছোট ইউনিটে কাজ করে এই যোদ্ধারা এমন সব যোগাযোগ সরঞ্জাম এড়িয়ে চলছে, যা ইসরায়েলিরা ট্যাপ করতে পারে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাদের মোকাবিলা করার সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-ট্যাংক রকেটের ব্যবহারে মিতব্যয়ী হচ্ছে।’
মাইকেল আরও জানান, ‘হাইফা এলাকাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে বর্তমানে ভারী বোমাবর্ষণ চলছে।’