হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধে ইরানের ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার, ৫ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের ছবি সেই বিধ্বস্ত ভবনের সামনে প্রদর্শিত হয়। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে ইরানের অন্তত ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি এই পরিমাণ জানান। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তা করার অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রিয়া নভোস্তিকে ফাতেমাহ মোহাজেরানি বলেন, ‘প্রাথমিক ও স্থূল হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন ডলার।’ তিনি জানান, ইরানি প্রশাসনের অর্থনৈতিক কর্তৃপক্ষগুলো কয়েকটি ধাপে এই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করবে।

মোহাজেরানি ব্যাখ্যা করেন, প্রথম ধাপে ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে বাজেটের রাজস্ব ক্ষতি ও শিল্পকারখানা বন্ধ থাকার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। দক্ষিণ ইরানের মিনাবের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বর্বরোচিত সামরিক হামলায় প্রায় ১৭০ জন প্রাণ হারায়। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মোহাজেরানি আরও বলেন, ‘মিনাব স্কুলে আমাদের প্রিয়জনদের রক্তক্ষয়ের ক্ষতিপূরণসহ জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা অবশ্যই আইনি পথ বেছে নেব।’

এদিকে, ইরান তাদের ওপর চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় অংশগ্রহণের অভিযোগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান—এই পাঁচটি আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট জামাল ফারেস আল-রোয়াইয়িকে লেখা সোমবারের এক চিঠিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত আমির সাঈদ ইরাভানি দাবি করেছেন, ওই রাষ্ট্রগুলো মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পথ সুগম করে দিয়ে তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। এর ফলে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী থাকা উচিত এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর এই আঞ্চলিক অস্থিরতা চরম রূপ নেয়। গত সপ্তাহে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে তেহরান ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। এই সংঘাতের ফলে পুরো অঞ্চল জুড়ে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন।

এদিকে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই গত রবিবার ভোরে শেষ হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রের বরাত দিয়ে জানাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে, বৃহস্পতিবার আবারও ইসলামাবাদে ফিরতে পারে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরই এমন খবর সামনে এল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি, তবে দুই দেশই চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ আলোচনায় ফিরতে পারে। ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে প্রতিনিধি দলগুলো শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত সময় খোলা রাখছে।’

গত মঙ্গলবারের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ৪ দিন পর পাকিস্তানের রাজধানীতে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠক ছিল গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দুই দেশের কর্মকর্তাদের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এমনকি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ।

ইরান যুদ্ধ: কয়টি জাহাজ হরমুজ পার হতে পেরেছে, কয়টি হামলার শিকার

মধ্যপ্রাচ্য–মধ্য এশিয়াকে তেল–গ্যাস পাইপলাইনে যুক্ত করার উচ্চাভিলাষ তুরস্কের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফা আলোচনা চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ, ভেন্যু ইসলামাবাদই: রয়টার্স

অবরোধে ক্ষুব্ধ ইরান আটকাতে পারে আরেক জলপথ, সিদ্ধান্ত পাল্টাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির চাপ

মার্কিন অবরোধ মানছে না চীন, যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ পেরিয়েছে দেড় শ ট্যাংকার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ৪৫ দিন বাড়ানোর চেষ্টা, আলোচনার পরবর্তী ভেন্যু নিয়ে মতবিরোধ

৮০ শতাংশ কাজের পরও চুক্তিতে ব্যর্থ ইরান–যুক্তরাষ্ট্র, নেপথ্যে আলাপ এখনো চলছে

হরমুজে মার্কিন অবরোধ: বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়ছে

ইউরেনিয়ামের কারণেই ভেস্তে গেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

ইরান থেকে ১২৪ মাইল দূরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ও দুই যুদ্ধজাহাজ