ইরানের ইয়াজদ প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উসকানি ও সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১৩৯ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইয়াজদ প্রদেশের পুলিশ কমান্ডার আহমেদ নেগাহবান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতরা বিক্ষোভ সংগঠিত করা ও দাঙ্গা পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাদের অনেকের সঙ্গে বিদেশের নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ছিল। তবে তারা ঠিক কোন দেশের নাগরিক, তা জানায়নি পুলিশ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনা।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরান সরকার এই পরিস্থিতির জন্য শুরু থেকেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে। এর মধ্যেই দেশটির বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির আজ মঙ্গলবার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘মার্কিন উসকানিতে যারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’ এর আগে তেহরানেও চারজন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের এক বিধ্বংসী যুদ্ধ হয়। তেহরানের অভিযোগ, ওই সময় ইসরায়েল ইরানের ভেতরে তাদের গুপ্তচরদের ব্যবহার করেছিল। সেই যুদ্ধের পর থেকেই ইরান সরকার দেশটিতে বসবাসরত বিদেশি বিশেষ করে আফগান নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। গত কয়েক মাসে লাখ লাখ আফগান নাগরিককে জোরপূর্বক বহিষ্কার করেছে তেহরান।