যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে একটি দ্বিমুখী শান্তি পরিকল্পনার খসড়া উভয় দেশের হাতে পৌঁছেছে। এক মাস ৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখা দিলেও, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
রয়টার্স ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই শান্তি পরিকল্পনায় দুটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে একটি স্থায়ী ও ব্যাপকভিত্তিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। এই প্রস্তাবটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে। তিনি গতকাল রোববার দিবাগত সারা রাত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
শান্তি প্রস্তাব হাতে পেলেও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে দ্বিমত পোষণ করেছে। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তাঁরা এখনই ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় খুলে দেবেন না। এ ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন মেনে নিতেও অস্বীকার করেছে তেহরান। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না আসে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোতে ‘নরক নেমে আসবে’।
ট্রাম্পের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আজ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। শান্তি পরিকল্পনার এই খসড়া এখন যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা নিরসনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।