বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নরক নামিয়ে আনা’র হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা হুংকার দিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন বা ইসরায়েল যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে শুধু হরমুজ নয়, বাব আল-মান্দেবসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক নৌপথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা এক ‘নতুন ব্যবস্থা’ প্রবর্তনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আইআরজিসি-র নৌ কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের জন্য এই পথ আর সহজ হবে না।’
ইরানের পার্লামেন্টে ইতিমধ্যেই একটি খসড়া বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রস্তাব করা হয়েছে:
১. হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানের জাতীয় মুদ্রায় ‘ট্রানজিট ফি’ দিতে হবে।
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
৩. যেসব দেশ ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করছে, তাদের জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, ইরান যদি আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে না দেয়, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালাবে এবং দেশটিতে ‘নরক’ নামিয়ে আনবে। এর আগে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারে, তবে তিনি ‘পুরো ইরান উড়িয়ে দেবেন।’
এর জবাবে বেলায়েতি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইতিহাস থেকে কিছু পাঠ নিলেও তারা এখনো “জ্বালানির ভূগোল” বুঝতে সক্ষম হয়নি। বৈশ্বিক জ্বালানি রুটের নিরাপত্তা এখন সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধের শক্তির ওপর নির্ভরশীল।’
ইরানের পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও রণহুংকার দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে তারা লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। এই রুটটি সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত কৌশলগত। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরান ও হুতিদের এই যৌথ অবস্থান বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের নৌবাহিনী চূড়ান্ত অপারেশনাল প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই তৎপরতা ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সংকেত দিচ্ছে।