ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানে ইন্টারনেটের সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকার মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক লাইভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো ‘‘এক বা দুজন’’ কমান্ডারকে হারিয়েছি।’
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন নাকচ করে আরাগচি বলেন, ‘আমার জানামতে, তিনি এখনো জীবিত আছেন।’ তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা হামলায় নিহত হয়েছেন।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো প্রেসিডেন্ট, সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহতের খবর অস্বীকার করেছিল। আরাগচির বক্তব্যেও সেই সুর পাওয়া গেছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান উত্তেজনা হ্রাসের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, ইরান পরিস্থিতির অবনতি চায় না এবং তাঁরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে এর জন্য শর্ত হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, ‘যদি মার্কিনিরা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায়, তবে আমার সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয়, তা তারা ভালো করেই জানে।’
উল্লেখ্য, মাত্র দুই দিন আগেও দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ওমানে নতুন করে আলোচনা হয়েছিল।
আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রসঙ্গে আরাগচি নিশ্চিত করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরান হামলা চালাচ্ছে। তবে একে তিনি যুদ্ধের উসকানি নয়, বরং ‘আত্মরক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।