হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

চলমান সংঘাতে যেসব শীর্ষ নেতাকে হারাল ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চলমান এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই নাড়িয়ে দেয়নি, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নৌপরিবহনেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এসব হামলায় ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন।

সবচেয়ে বড় ঘটনাটি হলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন। ৮৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় তিনি নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমে ক্ষমতা সুসংহত করেন এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বৈরিতা বজায় রাখেন।

উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন আলী লারিজানি, যিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। গত ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় হামলায় তিনি তাঁর ছেলে ও এক সহযোগীসহ নিহত হন। তিনি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক ছিলেন।

এ ছাড়া ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব বুধবার (১৮ মার্চ) ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তিনি কঠোরপন্থী ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং খামেনির ঘনিষ্ঠ মহলে কাজ করেছেন।

খামেনির আরেক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় তেহরানে নিহত হন। তিনি ইরানের নিরাপত্তা ও পারমাণবিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

সামরিক নেতৃত্বেও বড় আঘাত এসেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর একই দিনে নিহত হন। তিনি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহও ওই হামলায় প্রাণ হারান। সামরিক পরিকল্পনা ও প্রতিরক্ষা নীতিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি তেহরানে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে থাকা অবস্থায় নিহত হন। তিনি দেশের বিভিন্ন সামরিক শাখার সমন্বয় করতেন।

এ ছাড়া বাসিজ প্যারামিলিটারি বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি ১৭ মার্চের হামলায় নিহত হন। এই বাহিনী দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ধারাবাহিক এই হামলা ইরানের ক্ষমতার শীর্ষ স্তরকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

লারিজানি হত্যার চড়া মূল্য দিতে হবে: মোজতবা খামেনি

এবার গোয়েন্দামন্ত্রী নিহতের খবর নিশ্চিত করল ইরান

ইরানে এক ডজনের বেশি ব্যয়বহুল রিপার ড্রোন হারাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহেও লোহিতসাগরে হুতিদের রহস্যময় নীরবতা

ইরানে মাটির নিচে নতুন পারমাণবিক কেন্দ্রের সন্ধান দিল আইএইএ

ইরান যুদ্ধের মাঝপথেই ফিরছে ৩০ ঘণ্টা জ্বলতে থাকা সেই মার্কিন রণতরি

হরমুজ সংকট: তুরস্কের পাইপলাইনে তেল রপ্তানি শুরু করছে ইরাক

ইরানজুড়ে ১১১ ‘গুপ্তচর’ গ্রেপ্তার

ইরানি গোয়েন্দামন্ত্রীকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইরানে কত বাংলাদেশি আছেন, তাঁদের ফেরানোর উদ্যোগ কত দূর