ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রেই যাচ্ছেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। স্থানীয় সময় আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাঁর বহনকারী বিমানটির যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে তাঁদের প্রবেশের ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সরকার। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন।
রয়টার্স জানায়, গতকাল মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। দেশটির অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়া থেকে সড়কপথে প্রায় ১৯ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত তানক্রেদো নেভেস আন্তর্জাতিক সেতু দিয়ে তাঁরা আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন ফ্লাভিও। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাসপোর্ট জমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি।
আর্জেন্টিনার অভিবাসন বিভাগ জানায়, দেশটিতে প্রবেশের পর ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবার বুয়েনস এইরেসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বায়রেস ফ্লাই পরিচালিত একটি ব্যক্তিগত বিমানে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলের উদ্দেশে রওনা হন। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গালফস্ট্রিম জি৪০০ উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় আজ ভোরে গুয়ায়াকিলে অবতরণ করে। পরে সেটি মায়ামির ওপা-লক্কা বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে। তবে ইকুয়েডরে কীভাবে প্রবেশ করেছেন ফ্লাভিও, তা স্পষ্ট নয়।
ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে আবার ক্ষমতায় ফেরাতে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে বলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরানোর লক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে তৎপরতা চলেছিল।
ট্রাম্প এর আগে ফ্লাভিওর বাবা ও ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে বিচারিক নিপীড়নের শিকার বলে দাবি করেছিলেন। ২০২২ সালে লুলার কাছে পরাজয় মেনে না নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন জাইর বলসোনারো। পরে দেশে ফিরলে ব্রাসিলিয়ায় সরকারি ভবনে তাঁর সমর্থকদের হামলা ও অভ্যুত্থানচেষ্টার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড পান তিনি।
সিনেটর হিসেবে জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিওর মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হলে তাঁর বিচারিক দায়মুক্তি হারানোর কথা। তবে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশের পর গত সোমবার তিনি বলেছিলেন, দেশ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কখনো দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবিনি। পাসপোর্ট জমা দিয়ে এই প্রহসনের বিরুদ্ধে লড়ব।’