হোম > বিশ্ব > লাতিন আমেরিকা

মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতাকে তুলে নিয়ে গেল অস্ত্রধারীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কারাগার থেকে মুক্তির পর ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা। ছবি: সিএনএন

কারাগার থেকে মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক হুয়ান পাবলো গুয়ানিপাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতা ও কনজারভেটিভ দল প্রিমেরো হুস্তিসিয়ার প্রধান হুয়ান পাবলো গুয়ানিপাকে রোববার রাতের দিকে সশস্ত্র কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে ধরে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার ও রাজনৈতিক মিত্ররা। ঘটনাটি ঘটে তাঁর মুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর। গত আট মাসেরও বেশি সময় তিনি রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে কারাবন্দী ছিলেন।

বিরোধী পক্ষের দাবি, রাজধানী কারাকাসের লোস চোরোস এলাকায় বেসামরিক পোশাকে চারটি গাড়িতে করে আসা সশস্ত্র লোকজন কোনো পরিচয়পত্র না দেখিয়েই গুয়ানিপাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।

এই বিষয়ে দেশটির নোবেলজয়ী বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘ভারী অস্ত্রধারী লোকেরা এসে তাঁকে বলপ্রয়োগ করে নিয়ে গেছে।’

গুয়ানিপার ছেলে রামোন একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, প্রায় ১০ জন সশস্ত্র এজেন্ট তাঁর বাবাকে ‘অ্যামবুশ’ বা ওত পেতে ধরে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের দিকে অস্ত্র তাক করেছিল এবং বাবাকে নিয়ে গেছে।’ রামোন তাঁর বাবার জীবিত থাকার প্রমাণ দেখানোর দাবি জানান।

প্রিমেরো হুস্তিসিয়া দল এই ঘটনাকে ‘অপহরণ’ আখ্যা দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস, জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেস এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোকে এর জন্য দায়ী করেছে। দলটির বিবৃতিতে বলা হয়, গুয়ানিপার জীবনের কোনো ক্ষতি হলে দায় সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বর্তাবে।

তবে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস পরে জানিয়েছে, গুয়ানিপার মুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে গৃহবন্দী করার আবেদন করা হয়েছিল। সরকারি বক্তব্যে ‘অপহরণ’-এর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

এর আগে রোববার রাতে কারাগার থেকে বেরিয়ে গুয়ানিপা একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেন, ‘আজ আমরা মুক্তি পাচ্ছি। ভেনেজুয়েলার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কিছু বলার আছে, সত্যকে সামনে রেখেই।’

গুয়ানিপাকে ২০২৫ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ করেছিলেন, তিনি আঞ্চলিক ও আইনসভা নির্বাচনের বিরুদ্ধে একটি ‘সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রে’ জড়িত। গুয়ানিপা বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

মানবাধিকার সংগঠন ফোরো পেনাল জানিয়েছে, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৩০ জন রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে সংগঠনটির দাবি, এখনো শত শত রাজনৈতিক বন্দী কারাগারে রয়েছেন। সরকার অবশ্য বলে আসছে, তারা রাজনৈতিক কারণে কাউকে আটক রাখে না; আটক ব্যক্তিরা সবাই অপরাধে জড়িত।

এই মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জাতীয় সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত সাধারণ ক্ষমা আইনের আলোচনার মধ্যেই। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ঘোষণার তুলনায় মুক্তির গতি এখনো ধীর।

ভেনেজুয়েলার মজুত তেলে পূর্ণ করা যাবে ৬৪ হাজার স্টেডিয়াম

ভেনেজুয়েলার নতুন সরকারে ভরসা নেই মার্কিন গোয়েন্দাদের, মাচাদোকে নিয়েও সংশয়

‘১৫ মিনিটের মধ্যে রাজি হও, নয়তো মৃত্যু’, মাদুরোকে আটকের পর দেলসিকে বলেছিল যুক্তরাষ্ট্র

তেল খাতে শাভেজ মডেল থেকে সরে বেসরকারীকরণের পথে ভেনেজুয়েলা

মাদুরোকে অপহরণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগসাজশের ইঙ্গিত দিল রয়টার্স

কিউবার অর্থনীতি ভঙ্গুর হলেও সরকার পতনের ঝুঁকি নেই, কারণ জানাল সিআইএ

ভেনেজুয়েলায় মুক্তি পাচ্ছেন মাদুরোর কঠোর সমালোচক রাজনৈতিক বন্দীরা

তেল ছাড়া ভেনেজুয়েলার আর কী কী সম্পদ রয়েছে

যেভাবে কপালে আঘাত পেয়েছেন মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী

মাদুরোর আমলে সুইজারল্যান্ডের কাছে ১১৩ টন সোনা বিক্রি, নেপথ্যে কী