চার বছর বয়সী মেয়েকে পড়াতে বসেছিলেন বাবা। ৫০ পর্যন্ত সংখ্যা গুনতে বললে মেয়ে না পারায় তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। গত ২১ জানুয়ারি ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত বাবা কৃষ্ণ জয়সওয়াল এই ঘটনাকে প্রথমে সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
পুলিশ জানায়, কৃষ্ণ জয়সওয়াল ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ফরিদাবাদের ঝরসেনতালি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে, যার মধ্যে সাত বছর বয়সী এক ছেলে, চার বছর বয়সী ও দুই বছর বয়সী দুটি মেয়ে। এর মধ্যে চার বছর বয়সী মেয়েটি এই দুর্ঘটনার শিকার।
পুলিশ জানায়, দিনের বেলা বাড়িতে থেকে সন্তানদের দেখাশোনা করতেন কৃষ্ণ জয়সওয়াল। ঘটনার পর তিনি স্ত্রীকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তবে স্ত্রীর কাছে ভিন্ন কথা বলেন তিনি। কৃষ্ণ বলেন, খেলতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।
জয়সওয়ালের স্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছে শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এতে তাঁর সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জয়সওয়াল অপরাধের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে স্কুলে যেত না, তিনি বাড়িতেই পড়াতেন। ৫০ পর্যন্ত গুনতে না পারায় রাগের মাথায় তিনি মেয়েকে মারধর করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে কৃষ্ণা জয়সওয়াল জানান, সেদিন তিনি বাড়িতে মেয়েকে পড়াচ্ছিলেন। তিনি মেয়েকে ৫০ পর্যন্ত গুনতে বলেন, কিন্তু শিশুটি গুনতে পারেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। কয়েক মিনিট পর জয়সওয়াল তাকে নিকটবর্তী একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে।