ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ভোটার তালিকা পুননিরীক্ষণ কার্যক্রমের (এসআইআর) বিরুদ্ধে বিরোধী জোটের প্রতিবাদ দিন দিন জোরালো হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিত্তিক সংগঠন এই আন্দোলন মুখ হয়ে উঠলেও বিরোধী দলগুলো এখন প্রকাশ্যে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি।
তিনি অভিযোগ করেছেন, লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা সরকার বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার সঙ্গে আলোচনার পথ এড়িয়ে ‘মবোক্রেসি’-এর মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তন করতে চান।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি এই মন্তব্য করেন।
স্মৃতি ইরানি দাবি করেন, ২০২৫ সালে রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তাঁর লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে নয়, বরং ‘ভারতীয় রাষ্ট্রের’ বিরুদ্ধে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ভারতীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়? তা হলো ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো। আর এই গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সচল রাখে ভারতের নির্বাচন কমিশন। অথচ রাহুল গান্ধী অনবরত এই নির্বাচন কমিশনকেই আক্রমণ করে যাচ্ছেন।’
সাক্ষাৎকারে বিজেপির এই শীর্ষস্থানীয় নেত্রী অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী মনে করেন দেশকে শাসন করা তাঁর ‘জন্মগত অধিকার’।
স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘নিজের সেই ধারণা পোষণ করায় তাঁর অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে তিনি কি আইন ভাঙতে পারেন? তিনি কি সহিংসতায় উসকানি দিতে পারেন?’
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিরোধীদের উদ্দেশ্য যে স্বচ্ছতা রক্ষা নয়, বরং কেবল ক্ষমতা পরিবর্তন করা, তা রাহুল গান্ধীর সহযোগীরাও সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছেন।
রাহুল গান্ধী সংবিধানে স্বীকৃত প্রক্রিয়া বা সংসদীয় আলোচনার পথ ছেড়ে রাজপথের আন্দোলন বেছে নিয়েছেন উল্লেখ করে স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর ভোটাধিকার হরণের প্রমাণ দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি বলছেন কোনো প্রমাণ নেই। আবার তিনি সরকারের সঙ্গে কথা বলতেও রাজি নন।’
সাক্ষাৎকারে বিরোধী শিবিরের বিক্ষোভের ভাষা ও ধরন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিজেপি নেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিরা দেশের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর প্রয়াত মা ও সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হচ্ছেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই আন্দোলনে ‘বিদেশি হস্তক্ষেপের’ সম্ভাবনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্মৃতি ইরানি দাবি করেন, কংগ্রেসের নেতারা আগেও বিভিন্ন দেশে গিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিদেশি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস নেতারা এমনকি রাহুল গান্ধী নিজেও বিদেশ সফরকালে মন্তব্য করেছেন যে তাঁদের সাহায্যের প্রয়োজন। এটি কি একজন দায়িত্বশীল বিরোধীদলীয় নেতার আচরণ হতে পারে?’
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ ব্যাপক পুননিরীক্ষণ (এসআইআর) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো দেশজুড়ে আন্দোলন তীব্র করে তুলেছে।