সত্যাগ্রহ আন্দোলনে বসবেন ভারতের বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতারা। ‘অগ্নিপথ’ ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতেই দলটির এই কর্মসূচি। আগামী রোববার সকালে দেশটির রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে তাঁরা এই আন্দোলনে বসবেন বলে জানা গেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা ‘অগ্নিপথ’ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে দেশজুড়ে তরুণ-যুবারা যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতেই কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ এবং দেশটির পার্লামেন্টে থাকা কংগ্রেসের এমপিরা ‘সত্যাগ্রহে’ বসবেন।
কংগ্রেসের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেসের এমপি, দলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য এবং কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সব নেতা-কর্মী এই আন্দোলনে বসবেন। রোববার সকাল ১০টা থেকে এই সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হবে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস।
কংগ্রেসের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কারণ—অগ্নিপথ পরিকল্পনা সারা দেশের তরুণদের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাঁরা এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। আমাদের দায়িত্ব হলো তাঁদের পাশে দাঁড়ানো।’
এদিকে, কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী দেশটিতে চলমান ‘অগ্নিপথ’ পরিকল্পনাবিরোধী আন্দোলনকে দেশটির বহুল আলোচিত ‘খামার আইনের’ সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই আইনের প্রতিবাদে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকেরা তাঁদের ট্রাক্টর নিয়ে দিল্লি অভিমুখী যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরে সরকার কৃষকদের দাবি মেনে নিয়ে সেই আইন প্রত্যাহার করেছিল।
রাহুল গান্ধী এক টুইটে বলেছেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম যে প্রধানমন্ত্রীকে এই কালো খামার আইন তুলে নিতে হতে পারে। এখনো একই ঘটনা ঘটবে। এবার তাঁকে ‘মাফিবীর’ হয়ে তরুণদের দাবি মেনে নিয়ে “অগ্নিপথ” পরিকল্পনা তুলে নিতে হবে।’
‘অগ্নিপথ’ ইস্যুতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে প্রায় ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তর প্রদেশের পুলিশ। প্রদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই ইস্যুতে চেন্নাইয়েও ধরপাকড় চালিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। সেখানেও প্রায় ৩০০ আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।