ভারতজুড়ে লিঙ্গ বিদ্বেষের বিরুদ্ধে জাতীয় মহিলা কমিশনের নীরবতা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে প্রগতিশীল মহিলা সংগঠনগুলো। আজ কলকাতার ক্রিকরো থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতি (এআইপিডব্লিউএ) কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং বর্তমান চেয়ারপারসন বিজয়া কিশোর রাহাতকারের পদত্যাগ দাবি করেছে।
এআইপিডব্লিউএয়ের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদিকা ইন্দ্রানী দত্ত বলেন, জাতীয় মহিলা কমিশন বিজেপির তল্পিবাহক হয়ে উঠেছে। বিজেপি ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নিপীড়ন বা সাম্প্রদায়িক আক্রমণের ঘটনা ঘটলেও কমিশন নীরব থাকে, অথচ অ-বিজেপি রাজ্যে ঘটনা ঘটলেই হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
সংগঠনের অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী প্রজ্বল রেভান্না, বিজেপির এমপি ব্রিজভূষণ সিংহ, কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে আলী খান মাহমুদাবাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ স্পষ্ট। এমনকি মণিপুরে নারীদের ওপর যৌন হেনস্তার মতো নৃশংস ঘটনার ক্ষেত্রেও কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এআইপিডব্লিউএয়ের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও কমিশন একপেশে কাজ করছে। যেমন—সন্দেশখালীতে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি বা মুর্শিদাবাদে কেবল এক সম্প্রদায়ের নারীদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি—এসব কমিশনের রাজনৈতিক পক্ষপাত স্পষ্ট করে দেয় বলে দাবি সংগঠনের।
সংগঠনের তরফে চার দফা দাবি তোলা হয়েছে—বর্তমান চেয়ারপারসন বিজয়া কিশোর রাহাতকারের অবিলম্বে পদত্যাগ। মহিলা কমিশনের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক সংস্কার। দলমত-নির্বিশেষে যৌন হিংসার তদন্ত, বিচার ও সব নারী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
আগামী ৯ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সারা দেশজুড়ে এআইপিডব্লিউএ প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক পক্ষপাতের বিরুদ্ধে নয়, বরং নারীদের ওপর সংঘটিত বৈষম্য ও হিংসার বিরুদ্ধে একটি দেশব্যাপী সচেতনতার ডাক বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।