হোম > বিশ্ব > ভারত

সমাবেশে প্রাণহানি: থালাপতি বিজয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা, গ্রেপ্তার দাবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪০ জনের মৃত্যু ও অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

তামিল অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নির্বাচনী সমাবেশে পদদলিত হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বিজয়সহ তাঁর দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে। এরপরই গুঞ্জন উঠেছে, গ্রেপ্তার হতে পারেন বিজয়। তামিলনাড়ুর একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা আজ রোববার রয়টার্সকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাড়ির নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারক অরুণা জগদীশনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছে, যা তামিলনাড়ুর কারুর জেলার এ ঘটনা তদন্ত করবে। তবে ধীরে ধীরে বিজয়কে গ্রেপ্তারের দাবি জোরালো হচ্ছে।

অনেকে দক্ষিণী সুপারস্টার আল্লু অর্জুনের গ্রেপ্তারের উদাহরণ টেনেছেন। ‘পুষ্পা-২’ সিনেমা মুক্তির সময় হায়দরাবাদে পদদলিত হয়ে একাধিক প্রাণহানি ঘটেছিল। ওই ঘটনার পর তদন্ত কমিশন আল্লু অর্জুনকে তাঁর দলের অব্যবস্থাপনার জন্য গ্রেপ্তার করেছিল। যদিও আদালত পরে স্পষ্ট করে দেন, অনুষ্ঠানের দায়িত্ব আয়োজকদের, কোনো সেলিব্রিটির নয়।

এই পরিস্থিতিতে বিজয়ও গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কতা অগ্রাহ্য করেছেন। র‍্যালিতে দুপুরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তিনি প্রায় সাত ঘণ্টা দেরিতে আসেন। ততক্ষণে সমাবেশস্থল গরমে অতিষ্ঠ ও জনসমাগমে গাদাগাদি হয়ে পড়ে। অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়তে শুরু করেন।

বিরোধী দল ডিএমকে (দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম) নেতা মারুধু আজহাগুরায় ইতিমধ্যে বিজয়ের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, অভিনেতা জনগণের সঙ্গে থাকেননি, বরং একজন ‘‘হিট অ্যান্ড রান’ চালকের মতো দুর্ঘটনার পর দ্রুত চেন্নাই পালিয়ে গেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনসভায় ভিড় ধরে রাখার জন্য বিজয় ইচ্ছে করেই অনুষ্ঠান শুরু করতে দেরি করেন।

ঘটনার পরপরই বিজয় ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত চেন্নাইয়ে ফিরে যান এবং মুখ ঢেকে সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন। তিনি ব্যক্তিগত প্লেনে করে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চেন্নাই বিমানবন্দরে পৌঁছান। ফ্লাইট রাডারের তথ্য অনুযায়ী, ১১ হাজারের বেশি মানুষ বিজয়ের প্লেনটি ট্রাক করেছিল।

তবে আজ বিজয় একটি শোকবার্তা প্রকাশ করে বলেন, তিনি এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ২০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আপনাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করা যাবে না। এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে এই কঠিন সময়ে আপনাদের পাশে থাকা এবং আপনাদের দুঃখ ভাগ করে নেওয়া আমার কর্তব্য।’

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ ও র‍্যালির আয়োজন করেছিল বিজয়ের দল টিভিকে (তামিলাগা ভেটরি কাজাগম)। গতকাল বিকেলে কারুর জেলায় বিজয়ের সমাবেশস্থলে উপস্থিত ছিলেন অন্তত ৩০ হাজার সমর্থক। দুপুর নাগাদ বিজয়ের সেখানে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তিনি প্রায় সাত ঘণ্টা দেরিতে আসেন। ততক্ষণে সমাবেশস্থল গরমে অতিষ্ঠ ও জনসমাগমে গাদাগাদি হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিজয় মঞ্চে বক্তব্য শুরু করতেই হুড়োহুড়ি বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি বুঝে তিনি বক্তব্য থামিয়ে দেন এবং তাঁর বিশেষভাবে তৈরি প্রচার বাস থেকে ভিড়ের দিকে পানি ছুড়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে সমর্থকদের একাংশ ভিড় ঠেলে বাসের কাছাকাছি আসতে গিয়ে পড়ে যায়, সেখান থেকে শুরু হয় প্রাণঘাতী পদদলন। আজ সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় ৪০ জনের মৃত্যু ও অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কলকাতায় গ্রেপ্তার ‘বাংলা পক্ষ’র গর্গ চট্টোপাধ্যায়

‘মেয়েদের পড়াশোনা করে কী হবে’—বিহারের নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড়

শুভেন্দু অধিকারীর পিএ খুন: অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার ‘শুটার’ বিজেপি-ঘনিষ্ঠ

প্রশ্নপত্র ফাঁস: ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল

জ্বালানি সংকট: এবার স্কুলে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ মোদির

পশ্চিমবঙ্গে চার দিনে সহিংসতার ঘটনা ৩৪টি, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিমরা

দায়িত্ব নিয়েই ৭১৭ মদের দোকান বন্ধ করলেন বিজয়

মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেও বিপদ কাটেনি বিজয়ের, মুখোমুখি হতে হবে আস্থা ভোটের

শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন

৯০ লাখ ভোটার বাদ দিয়ে হারানো হয়েছে তৃণমূলকে, মমতার আবেদনে সাড়া দিলেন আদালত