বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, টাইগার শ্রফ হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন না। অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে আততায়ীরা মুম্বাইয়ে এসেছিল। পরে সেই ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু বানায় তারা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিহারের ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান ও ফুল সিং গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান। ফুটবল খেলা শেষে অভিনেতা নিজ গাড়িতে করে ফিরছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা একাধিক গুলি ছোড়ে।
সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তিন অভিযুক্ত জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁরা অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে অনুসরণ করছিলেন। পরে ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না বুঝতে পেরে লক্ষ্য পরিবর্তন করেন। ভক্তদের প্রকাশ করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিলস থেকে তাঁরা জানতে পারেন, টাইগার শ্রফের সঙ্গে পুলিশি নিরাপত্তা নেই। এরপর এই অভিনেতা ও তাঁর ভক্তদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে তাঁর চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বলিউডে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে টাইগার শ্রফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হামলাকারীরা। অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে সাতটি গুলি ছোড়া হয়। আরও গুলি চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও একটি আগ্নেয়াস্ত্রে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় টাইগার শ্রফ ও তাঁর গাড়িচালক আহত হন। তবে তাঁরা গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে সক্ষম হন।
এদিকে গুলিবর্ষণের কয়েক ঘণ্টা পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়। প্রকাশিত একটি অডিওবার্তায় অনিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো বলে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, টাইগার শ্রফকে আগে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই সতর্কতা আমলে নেননি।
অডিওবার্তায় সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা বা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ অমান্যকারীদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। তবে এই দাবির সঙ্গে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্যের সম্পর্ক তদন্তে কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
সূত্রের দাবি, হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অগ্রিম ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল। কাজ শেষ হলে আরও অর্থ ও বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। গুলি চালানোর পর তাঁরা তাঁদের নিয়ন্ত্রকদের অভিযান সম্পন্ন হওয়ার খবর জানান।
এদিকে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে গতকাল সোমবার টাইগার শ্রফের বাসায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, মুম্বাইয়ে কারও দাদাগিরি চলতে দেওয়া হবে না।