ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বুধবার নিজ বাসভবনে দলীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে যে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে (২০৭ আসন), তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি কারচুপির মাধ্যমে জনগণের রায় জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি জানান, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যসহ অন্যদের নিয়ে তিনি আইনগত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, তারা চাইলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারে, তবে তা যেন সরকারি নথিতে রেকর্ড করা থাকে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও জটিল সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই অনড় অবস্থানের ফলে রাজ্য প্রশাসন, রাজভবন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এক ত্রিমুখী সংঘাত শুরু হয়েছে। এটি ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিরল।
এর মধ্য দিয়ে রাজ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫৬ প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এটি বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
গোহারা হেরেও মমতার তৃণমূলের লক্ষ্য এখন দিল্লি। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ব্যানারে তাঁরা এই ‘চুরি হওয়া ম্যান্ডেট’ বা জনরায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এ বিষয়ে লোকসভার সাবেক মহাসচিব পি ডি টি আচার্য ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, তিনি (মমতা) পদত্যাগ করেন কি না, তাতে কিছু যায়-আসে না। সংবিধান অনুযায়ী, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দলীয় এক সভায় পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছিলেন মমতা। তাঁর এই সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করেছেন তাঁর ভাতিজা ও তৃণমূল এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলীয় নেতাদের আগের পদ থেকে সরে না দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং এই কারচুপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এদিকে ৯ মে রাজ্যে বিজেপির প্রথম গেরুয়া মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা জল্পনা। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির প্রধান সমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগেই এই দিনের কথা ঘোষণা করেছেন—২৫ বৈশাখ, ৯ মে। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। এই দিনেই শপথ অনুষ্ঠান হবে। রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই আমরা সরকার চালাব—এটি আমাদের পুরোনো প্রতিশ্রুতি।’
বিজেপির এই শপথ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে তৃণমূল। দলটির মন্ত্রী ও নেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওই দিন বিজেপির শপথ গ্রহণের প্রতিবাদে সারা রাজ্যের দলীয় কার্যালয়গুলোতে যেন রবীন্দ্রসংগীত বাজানো হয়।