পূর্ব শত্রুতার জেরে ভারতের রাজস্থানে দলিত সম্প্রদায়ের এক যুবককে অপহরণের পর মারধর করে মূত্রপানে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে আট ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আজ রোববার এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্থানের চুরু জেলায় গত বৃহস্পতিবার দলিত ওই যুবককে মারধরের পর মূত্রপান করানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করেছে রাজস্থান পুলিশ।
ভুক্তভোগী রাকেশ মেঘওয়াল নামের ওই যুবক চুরু জেলার রুখাসার গ্রামের বাসিন্দা। রাজস্থানের রতনগর পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা অভিযোগে তিনি বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে একটি মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে অভিযুক্তরা একটি বোতলে মদের সঙ্গে প্রস্রাব মিশিয়ে তাঁকে খেতে বাধ্য করে।
এ সময় তাকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি বর্ণবাদী গালি দেওয়া হয়।
অভিযুক্তরা রুখাসা গ্রামের প্রভাবশালী সম্প্রদায়ের সদস্য।
পুলিশ বলছে, মেঘওয়ালের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি মারধরের হয়েছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিমাংশু শর্মা বলেন, ভুক্তভোগীকে মারধর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জোরপূর্বক প্রস্রাব পান করানো হয়েছে এমন অভিযোগ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেছেন, উমেশ এবং বীরবল নামের দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত অক্ষয়, রাজেশ, রাকেশ, তারাচাঁদ, বিদাদিচাঁদ এবং দীনেশ পলাতক আছেন।
ভুক্তভোগী মেঘওয়াল বলছেন, হলির সময় তিনি স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র ‘চ্যাং’ বাজাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাজে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তাঁকে তুলে নিয়ে মারধরের পর মূত্রপানে বাধ্য করা হয়েছে।