হোম > বিশ্ব > ভারত

স্কুলে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করল থালাপতি বিজয়ের সরকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

স্কুলে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে থালাপতি বিজয়ের সরকার। ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। নতুন এক নির্দেশনায় সরকারি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক এবং বেসরকারি ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা গ্রহণের স্থান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্র নয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী রাজ মোহনের জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র সরকারি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই স্কুল ও শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রেণিকক্ষ শিক্ষা গ্রহণের জন্য নির্ধারিত স্থান। সেখানে রাজনৈতিক নেতা বা কোনো ব্যক্তির প্রশংসা প্রচারের উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সার্কুলারে বলেছে, ‘স্কুল হলো শিক্ষার স্থান, কারও প্রশংসা কুড়ানোর মঞ্চ নয়।’

এ ছাড়া, রাজনৈতিক নেতাদের জন্মদিন স্কুলের শ্রেণিকক্ষ কিংবা স্কুল প্রাঙ্গণে উদ্‌যাপনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্কুলার অনুযায়ী, সরকারি স্কুলে আয়োজিত যেকোনো অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও শিক্ষাগত প্রাসঙ্গিকতার নীতি অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকার জানিয়েছে, সরকারি স্কুলে অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের জন্য শিগগিরই একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে।

এদিকে এই সিদ্ধান্ত এমন সময় নেওয়া হয়েছে, যখন তামিলনাড়ু সরকার নিজেকে দেশের অন্যতম সেরা স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা-সম্পন্ন রাজ্য হিসেবে তুলে ধরছে। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা বিভাগ বৃহস্পতিবার ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশনের সর্বশেষ তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, বিদ্যালয়ে ধরে রাখার হার, শিক্ষক প্রাপ্যতা, অবকাঠামো এবং শিক্ষাগত অগ্রগতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে তামিলনাড়ু জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।

এক বিবৃতিতে শিক্ষা বিভাগ বলেছে, রাজ্য এমন একটি স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যা শুধু শিক্ষার সুযোগই নিশ্চিত করে না, বরং শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের শিক্ষা অব্যাহত রাখার জন্য একাধিক কার্যকর পথও তৈরি করেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট স্কুলের মাত্র ৩ দশমিক ৯ শতাংশ তামিলনাড়ুতে অবস্থিত হলেও দেশটির মোট স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীর প্রায় ৫ শতাংশ এই রাজ্যে পড়াশোনা করে। শিক্ষা বিভাগের দাবি, এটি শিক্ষাগত অবকাঠামোর দক্ষ ব্যবহার, শিক্ষায় সহজ প্রবেশাধিকার এবং পর্যাপ্ত শিক্ষকসংখ্যা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজ্যটির সক্ষমতার প্রতিফলন।

বর্তমানে তামিলনাড়ুতে রয়েছে ৫৭ হাজার ৫৬৬টি স্কুল, ১ কোটি ২৪ লাখ শিক্ষার্থী এবং ৫ লাখ ৬৯ হাজার শিক্ষক। রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত ২২, যেখানে জাতীয় গড় ২৪। গড় হিসেবে তামিলনাড়ুর প্রতিটি স্কুলে ২১৫ জন শিক্ষার্থী এবং ১০ জন শিক্ষক রয়েছেন। অন্যদিকে, জাতীয় গড়ে প্রতি স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬৯।

রাজ্যটির মোট ভর্তির হার প্রাথমিক স্তরে ৯২ শতাংশ, উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ৯৫ শতাংশ, মাধ্যমিক স্তরে ৯৭ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ৮৫ শতাংশ। একই সূচকে জাতীয় গড় যথাক্রমে ৮৯ শতাংশ, ৯০ শতাংশ, ৮২ শতাংশ এবং ৬২ শতাংশ। এ ছাড়া প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে তামিলনাড়ু শূন্য ঝরে পড়ার হার অর্জন করেছে। আর মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার মাত্র ৬ দশমিক ২ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ৯ দশমিক ৫ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

কলকাতা বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের মসজিদে প্রবেশ বন্ধ করল শুভেন্দু সরকার

৩৫ বছর পর সাবেক সহকর্মীকে খুঁজে বের করে ঋণ শোধ

ভারতে পুত্রবধূকে গোমূত্র খাওয়ানোর অভিযোগে এমপি পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা

ভারতে গণপিটুনির রায়: হত্যার হুমকি ও সাম্প্রদায়িক আক্রমণের শিকার মুসলিম নারী বিচারক

বিহারে ৩০০০ ভুয়া শিক্ষক বরখাস্ত, ১৪০০ কোটি রুপি সুদসহ ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত

মোদি কেন সংবাদ সম্মেলন করেন না—নিউজিল্যান্ড সফরেও উঠল প্রশ্ন

তরুণীর বিরুদ্ধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে বাবা-মাকে হত্যার অভিযোগ, নেপথ্যে কী

জামিনে বেরিয়ে ধর্ষণের অভিযোগকারী কিশোরী ও নিজের পরিবারসহ ৬ জনকে হত্যা

ভারতীয় খাবারে অরুচি, কারাগারে নিজে রান্নার অনুমতি চেয়ে অনশন মার্কিনির

ডিম হামলাকে ‘অভিনব উদ্ভাবন’ বললেন বিজেপি মন্ত্রী, আদালতে গড়াল বিতর্ক