উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্রনেতা উমর খালিদ এবং শারজিল ইমামের জামিন আবেদন আবারও খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের একটি আদালত। আজ শনিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে দিল্লির অতিরিক্ত দায়রা জজ সমীর বাজপেয়ি দুই অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম তাঁদের নতুন জামিন আবেদনে যুক্তি দেখিয়েছিলেন, কোনো ধরনের বিচার বা ট্রায়াল শুরু করা ছাড়াই তাঁদের এই দীর্ঘস্থায়ী আটকাদেশ ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক স্বাধীনতার অধিকারকে লঙ্ঘন করছে। কিন্তু আবেদনকারীদের এমন দাবি সত্ত্বেও আদালত তাঁদের জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানান।
উমর খালিদের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, সুপ্রিম কোর্টে আগের আবেদন খারিজ হলেও পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের অন্য একটি রায়ের পর্যবেক্ষণ এই মামলার ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন এনেছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৮ মে সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ অন্য একটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন দেওয়ার সময় স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ইউএপিএ আইনের অধীনেও ‘জামিন একটি সাধারণ নিয়ম’। সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে কখনো অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষকে আটকে রাখার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
তিনি খালিদের পক্ষে ‘ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া বনাম কে এ নাজিব’ এবং ‘ভার্নন গনসালভেস বনাম মহারাষ্ট্র রাজ্য’ মামলার নজির টেনে বলেন, বিচার যদি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, তবে ইউএপিএর বিধিনিষেধ কখনো সাংবিধানিক সুরক্ষাকে খর্ব করতে পারে না।
অন্যদিকে শারজিল ইমাম তাঁর আবেদনে জানান, সুপ্রিম কোর্ট জামিন নামঞ্জুর করার পর আরও ছয় মাস কেটে গেছে। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়নি। তিনি ইতিমধ্যে প্রায় ছয় বছর কারাগারে বন্দী আছেন, অথচ এখন পর্যন্ত আদালতে এই মামলার আনুষ্ঠানিক চার্জ বা অভিযোগ গঠন করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে একই আদেশে এই মামলার অন্য পাঁচ অভিযুক্ত গুলফিশা ফাতিমা, মিরান হায়দার, শিফা উর রেহমান, মহম্মদ সালিম খান এবং শাদাব আহমেদকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।
আদালত তখন বলেছিলেন, এই পাঁচজনের ভূমিকা তুলনামূলক কম ছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো উমর বা শারজিলের মতো ততটা গুরুতর নয়। তাঁদের ১২টি কঠোর শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে এবং শর্ত ভঙ্গ করলে বিচারিক আদালত জামিন বাতিলের ক্ষমতা রাখবেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) বিরোধী আন্দোলনের সময় উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫৩ জন নিহত এবং ৭০০-এর বেশি গুরুতর আহত হন। পুলিশ দাবি করে, এই দাঙ্গার পেছনে উমর খালিদ, শারজিল ইমামসহ কয়েকজন ছাত্রনেতার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল। সেই অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) বিভিন্ন ধারায় মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।