হোম > বিশ্ব > ভারত

বিহারে ৩০০০ ভুয়া শিক্ষক বরখাস্ত, ১৪০০ কোটি রুপি সুদসহ ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিহার রাজ্যে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি স্কুলের চাকরি বাগিয়ে নেওয়া ৩ হাজার ৩৫ জন শিক্ষককে বরখাস্ত করেছে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। একই সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে বেতন হিসেবে নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি রুপি সুদসহ এই শিক্ষকদের কাছ থেকে উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

ভারতের হিন্দি দৈনিক ‘দৈনিক ভাস্করের’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পাটনা হাইকোর্টের নির্দেশে রাজ্যের ‘ভিজিল্যান্স ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’ (ভিআইবি) ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ওপর তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্তের পর এই বড় আকারের নিয়োগ জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকেরা সরকারি চাকরি পেতে জাল জাতিগত প্রশংসাপত্র, আধার কার্ড, বয়স ও প্রতিবন্ধী সনদ এবং জাল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দিয়েছিলেন।

এ ছাড়া তদন্তে দেখা গেছে, অনেক শিক্ষক ভুয়া ‘সেন্ট্রাল টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট’ (সিটেট) ও ‘টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট’ (টেট) সনদ ব্যবহার করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে নেওয়া ডিগ্রিগুলোও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।

বিহারের শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি জানিয়েছেন, এই বরখাস্তের ঘটনাটি কেবল একটি বড় অভিযানের শুরু মাত্র।

গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই তদন্তটি দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল। এখন ভিজিল্যান্স ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর তদন্ত শেষ হয়েছে এবং দেখা গেছে ৩ হাজারের বেশি শিক্ষক জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের দপ্তরের কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ভবিষ্যতে শিক্ষা দপ্তর এমন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে যাতে কেউ আর এমন জালিয়াতির সাহস না পায়।’

বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের বেতন হিসেবে দেওয়া অর্থ সুদসহ ফেরত নেওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিওয়ারি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। তবে আমি যেমনটা বলেছি, এটি অত্যন্ত কঠোর একটি সিদ্ধান্ত হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে যেকোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের যোগদানের আগেই তাঁদের শিক্ষাগত ও অন্যান্য সনদ বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করা হবে।

২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের নিয়োগেই কেবল এই জালিয়াতি সীমাবদ্ধ কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল বলেই এই অনিয়মগুলো সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমারের নির্দেশেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। যেহেতু বিশাল সংখ্যক নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হয়েছে, তাই সময় বেশি লেগেছে। এখনো কিছু তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা দপ্তর কোনো ধরনের জালিয়াতি সহ্য করবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের মতো আমাদের রাজ্য সরকারের নীতিও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।’

ভারতে গণপিটুনির রায়: হত্যার হুমকি ও সাম্প্রদায়িক আক্রমণের শিকার মুসলিম নারী বিচারক

মোদি কেন সংবাদ সম্মেলন করেন না—নিউজিল্যান্ড সফরেও উঠল প্রশ্ন

তরুণীর বিরুদ্ধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে বাবা-মাকে হত্যার অভিযোগ, নেপথ্যে কী

জামিনে বেরিয়ে ধর্ষণের অভিযোগকারী কিশোরী ও নিজের পরিবারসহ ৬ জনকে হত্যা

ভারতীয় খাবারে অরুচি, কারাগারে নিজে রান্নার অনুমতি চেয়ে অনশন মার্কিনির

ডিম হামলাকে ‘অভিনব উদ্ভাবন’ বললেন বিজেপি মন্ত্রী, আদালতে গড়াল বিতর্ক

এক বছর পর নিজ দেশে ফিরল ৪ ভারতীয়

রাস্তায় প্রকাশ্যে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

রামমন্দির হলেও তহবিল সংকটে বাবরি মসজিদের বিকল্প প্রকল্প ছোট করার সিদ্ধান্ত

বর্ষার পানিতে ভাসছে মুম্বাই, হাইকোর্ট বললেন— ‘নাগরিকদেরই তৈরি সংকট’