অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে নাবালক অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিককে দীর্ঘ ২১ বছর পর অবিলম্বে মুক্তি ও প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। ভারতের জুভেনাইল জাস্টিস বা কিশোর বিচার আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা খাটা হয়ে যাওয়ায় আদালত এই ঐতিহাসিক রায় দেন।
ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তিনি নাবালক ছিলেন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৬ বছর। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
আদালত তাঁর রায়ে স্পষ্ট করেন, কিশোর বিচার (শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা) আইন অনুযায়ী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা দেওয়া যায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইতিমধ্যে ২১ বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ওই ব্যক্তির বয়স নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ডিভিশন বেঞ্চে জমা দেন। ওই ব্যক্তির শরীরে ওসিফিকেশন টেস্ট বা হাড়ের পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, বর্তমানে তাঁর বয়স ৩৬ বছর। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিশ্চিত হন, ২০০৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারের সময় তিনি প্রকৃতপক্ষেই নাবালক ছিলেন।
আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ওই ব্যক্তিকে দ্রুত তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় বা তিনি বাংলাদেশের কোন এলাকার বাসিন্দা, তা ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁকে কবে বা কোন চেকপোস্ট হয়ে ফেরত পাঠানো হবে, তা-ও বলা হয়নি।