আজ ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে অগ্নিপরীক্ষার দিন। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরি—এই পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জনগণের রায় আজই স্পষ্ট হবে। সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু হওয়ার পর যে প্রাথমিক প্রবণতা সামনে আসছে, তাতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণ ভারতে তীব্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই পাখির চোখ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক দশকের শাসনকালকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গেরুয়া শিবির যে লড়াই শুরু করেছিল, তার চূড়ান্ত ফল আজ বোঝা যাবে। অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটের (ইন্ডিয়া ব্লক) কাছেও এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একাধিক রাজ্যে তারা লড়াই করছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।
পশ্চিমবঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে তীব্র টক্কর চলছে। প্রাথমিক গণনায় দুই দলই একে অপরকে কড়া পাল্লা দিচ্ছে। এক দশকের লড়াই আজ চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।
তামিলনাড়ুতে ডিএমকে এগিয়ে: দক্ষিণের অন্যতম প্রধান রাজ্য তামিলনাড়ুতে এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বে ডিএমকে-কংগ্রেস জোট প্রাথমিক ঝোঁকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। বুথফেরত সমীক্ষাও এই জোটের ধারাবাহিক জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল।
আসামে স্বস্তিতে বিজেপি: আসামে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বিজেপি জোট পুনরায় ক্ষমতায় আসার পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। তবে দল একক সংখ্যাধিক্য পায় কি না, সেটাই এখন দেখার।
কেরালা ও পুদুচেরির চিত্র: কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (ইউডিএফ) প্রাথমিকভাবে এগিয়ে থাকলেও এলডিএফের সঙ্গে লড়াই চলছে। অন্যদিকে, পুদুচেরিতে মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামীর দল এআইএনআরসি আপাতত এগিয়ে।
পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচনে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং মাছ-ভাতের রাজনীতির মতো নানা ইস্যু প্রভাব ফেলেছে। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষা বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও তৃণমূল ফলাফল উল্টে দেওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।
তামিলনাড়ুতে অভিনেতার চমক: দক্ষিণের রাজনীতিতে অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল টিভিকে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট কাটতে পারে এই নতুন দল, যা বড় সমীকরণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
কংগ্রেসের অগ্নিপরীক্ষা: তামিলনাড়ু ও কেরালা দুই রাজ্যেই কংগ্রেসের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। কেরালায় গতবার বামদের জয় প্রথাগত ’বদল’ নীতি ভেঙে দিয়েছিল, তাই এবার কংগ্রেস সেখানে ক্ষমতা ফিরে পেতে মরিয়া।
বামদের সংকট: বামপন্থীদের জন্য কেরালা হলো শেষ দুর্গ। এই নির্বাচনে হারলে ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথম সারা দেশ থেকে বামেরা আক্ষরিক অর্থেই শাসনক্ষমতা হারাবে।
আসামে গগৈ বনাম শর্মা: আসামে কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের ভাবমূর্তি এবং দুর্নীতির অভিযোগ বনাম হিমন্ত বিশ্ব শর্মার আইনি লড়াই—প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই দ্বৈরথ।
এদিকে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট ছাড়াও আজ সাতটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনেরও ফলাফল ঘোষণা হবে। এর মধ্যে রয়েছে গুজরাট, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরার আসনগুলো।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, প্রতিটি রাজ্যেই গণনার গতি বাড়ছে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চূড়ান্ত চিত্র পরিষ্কার হবে। এখন সারা দেশের নজর পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর দিকে।