হোম > বিশ্ব > ভারত

ভারতে খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ভারতের কলকাতায় ইস্টার প্রার্থনায় অংশগ্রহণকারী খ্রিষ্টানেরা। ছবি: সংগৃহীত

গত রোববার (২০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত হয়েছে খ্রিষ্ট ধর্মীয় ইস্টার প্রার্থনা। এদিন ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদ শহরে ইস্টার প্রার্থনা চলাকালে একটি খ্রিষ্টান সমাবেশে হামলা চালিয়েছে বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর সদস্যরা। তারা প্রার্থনাস্থলে ঢুকে লাঠি হাতে স্লোগান দিতে দিতে হট্টগোল করে।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, আহমেদাবাদের ওধাভ এলাকার একটি আবাসিক হলে শতাধিক খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীর একটি শান্তিপূর্ণ প্রার্থনাসভায় ওই হামলা চালানো হয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারীরা ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘হর হর মহাদেব’ স্লোগান দিতে দিতে প্রার্থনা স্থলে প্রবেশ করছেন।

এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই গোষ্ঠী আধিপত্যবাদী ‘হিন্দুত্ব’ মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই তারা মুসলিম ও খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিতকরণের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

হামলায় আহত হওয়ার কোনো খবর না থাকলেও ঘটনাটি ভারতে ধর্মীয় সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হুমকির ক্রমবর্ধমান ঘটনাবলিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ওধাভ থানার ইন্সপেক্টর প্রতীক জিনজুভাদিয়া জানিয়েছেন, স্থানীয় বিমল পার্ক সোসাইটির একটি আবাসিক হলে ওই প্রার্থনা সভাটি হচ্ছিল। সেখানে অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ তোলেন হামলাকারীরা।

পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকেই থানায় নিয়ে গিয়ে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে। বজরং দলের স্থানীয় প্রতিনিধি দর্শন জোশি ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানান।

তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এমন কোনো ধর্মান্তর কার্যক্রমের প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জিনজুভাদিয়া।

প্রার্থনায় উপস্থিত খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্য ইমানুয়েল আমায়দাস ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থান দখল ও বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।

এই ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বজরং দলের আঞ্চলিক সমন্বয়ক জ্বলিত মেহতা বলেন—ওধাভ ও নিকোল এলাকায় খ্রিষ্টান সমাবেশে তারা প্রবেশ করেছিলেন। কারণ তারা খবর পেয়েছিলেন সেখানে ধর্মান্তরকরণের কার্যক্রম চলছে।

ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে জোরপূর্বক ধর্মান্তর আইনত দণ্ডনীয় হলেও সেগুলোর সংজ্ঞা অস্পষ্ট এবং সংখ্যালঘুদের টার্গেট করতে এগুলো প্রায়ই অপব্যবহার করা হয় বলে সমালোচকদের অভিযোগ।

ইউনাইটেড খ্রিষ্টান ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ টি, যা আগের বছর ছিল ৭৩৪ টি।

ঠান্ডা পানিতে নামলেন না উদ্ধারকর্মী, ৭০ ফুট গভীর গর্তে যুবকের মৃত্যু

বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত

বিজেপির জাতীয় সভাপতি হলেন বিহারের নীতিন নবীন

নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস, কর্ণাটকে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত

কাশ্মীরে মসজিদের ওপর কড়া নজরদারি, মুসল্লিদের তথ্য নিচ্ছে মোদি সরকার

সুভাষ চন্দ্র বসুর নাতির ছেলেকেও নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে, কমিশনের নোটিশে বিতর্ক

ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেল ভারত

তৃণমূলকে উচ্ছেদের সময় হয়ে গেছে: মালদহে মোদি

‘সুন্দরী নারী পুরুষকে বিচ্যুত করতে পারে’, ভারতীয় রাজনীতিকের বক্তব্যে তোলপাড়

ইরানের চাবাহার বন্দর নিয়ে চাপে ভারত, ট্রাম্পকে মানাতে মরিয়া দিল্লি