লাটভিয়ায় উত্তর কোরিয়া বিষয়ক একটি বক্তৃতা দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার ও ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হয়েছেন রুশ গবেষক আন্দ্রেই লানকভ। রুশ গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বক্তৃতা শুরুর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে লাটভিয়ার পুলিশ ও অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন।
উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত আন্দ্রেই লানকভ বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত কোকমিন ইউনিভার্সিটিতে ইতিহাসের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, লাটভিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
লানকভ জানান, অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট আগে পুলিশ এসে তাঁকে জানায়, তাঁর নাম কালো তালিকায় রয়েছে। পরে তাঁকে একটি অভিবাসন দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে গাড়িতে করে এস্তোনিয়া সীমান্তে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।
লাটভিয়া কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও লানকভের ধারণা—উত্তর কোরিয়া নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণধর্মী অবস্থানের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার লেখার ভঙ্গি অতিরিক্ত নিরপেক্ষ বলে তারা মনে করে। আমি কখনো কখনো উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে ইতিবাচক কথাও বলি, আবার সমালোচনা করলেও তা উগ্র ভাষায় নয়।’
রাশিয়ার লেনিনগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) জন্ম নেওয়া লানকভ ১৯৮০-এর দশকে শিক্ষার্থী হিসেবে উত্তর কোরিয়ায় বসবাস করেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সাল থেকে তিনি আবারও দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অধ্যাপনা শুরু করেন। তিনি রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈত নাগরিক।
লানকভ প্রায়ই উত্তর কোরিয়াকে সীমিত সম্পদ নিয়েও কৌশলে টিকে থাকা এক বাস্তববাদী শাসনব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা এবং মস্কোর পক্ষে উত্তর কোরিয়ার সেনা ব্যবহারেরও সমালোচনা করেছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে মস্কোর একটি আদালত তাঁকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষিত একটি সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১০ হাজার রুবল জরিমানা করেছিলেন বলেও জানা যায়।