হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইউরোপকে রক্ষার ‘স্বপ্নের ঘোরে’ থাকা নেতাদের ‘শুভকামনা’ ন্যাটো মহাসচিবের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে গতকাল সোমবার জোর দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউরোপ নিজেকে রক্ষা করতে অক্ষম এবং তেমন সক্ষমতা অর্জন করতে হলে দেশগুলোকে বর্তমান সামরিক ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণের বেশি খরচ করতে হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনপ্রণেতাদের রুটে বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা সামগ্রিকভাবে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া নিজেকে রক্ষা করতে পারবে, তবে তারা স্বপ্নের ঘোরে আছেন। আপনারা তা পারবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘একে অপরকে প্রয়োজন।’

ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নতুন হুমকির কারণে ন্যাটোর অভ্যন্তরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ইউরোপীয় সমর্থকদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের কথা বললেও পরে রুটের সহায়তায় খনিজসমৃদ্ধ এই দ্বীপটি নিয়ে একটি চুক্তির ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ বা রূপরেখা তৈরি হওয়ায় তিনি সেই হুমকি প্রত্যাহার করে নেন। তবে এই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য খুব কমই সামনে এসেছে।

৩২টি দেশের এই সামরিক জোট পারস্পরিক প্রতিরক্ষাবিষয়ক অনুচ্ছেদ ‘আর্টিকেল ৫’ দিয়ে একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ, যা ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা ওয়াশিংটন চুক্তির অংশ। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ন্যাটোর কোনো সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হুমকির মুখে পড়লে প্রতিটি দেশ সেই মিত্রের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে বাধ্য।

গত জুলাইয়ে দ্য হেগ-এ অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে স্পেন ছাড়া বাকি ইউরোপীয় মিত্ররা এবং কানাডা ট্রাম্পের এই দাবিতে সম্মত হয়েছিল, এক দশকের মধ্যে তারা তাদের অর্থনৈতিক উৎপাদনের (জিডিপি) ততটুকু শতাংশ প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ করবে, যতটুকু যুক্তরাষ্ট্র করে। তারা ২০৩৫ সালের মধ্যে মূল প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অবকাঠামোতে আরও ১ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থাৎ মোট ৫ শতাংশ ব্যয় করার অঙ্গীকার করেছে।

রুটে বলেন, ‘যদি আপনারা সত্যিই একা চলতে চান, তবে ভুলে যান যে ৫ শতাংশ দিয়ে কোনো দিন সেখানে পৌঁছাতে পারবেন। এটি তখন হবে ১০ শতাংশ। আপনাদের নিজস্ব পারমাণবিক সক্ষমতা তৈরি করতে হবে, যার পেছনে শত শত কোটি ইউরো খরচ হবে।’

ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ (strategic autonomy) গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে আসছে। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যখন সতর্ক করেছিল, তাদের নিরাপত্তার অগ্রাধিকারগুলো অন্য জায়গায় এবং ইউরোপীয়দের নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে, তখন থেকে ফ্রান্সের এই অবস্থানের পক্ষে সমর্থন বেড়েছে।

রুটে আইনপ্রণেতাদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইউরোপ আমাদের স্বাধীনতার চূড়ান্ত গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা, অর্থাৎ মার্কিন পারমাণবিক ছত্রচ্ছায়া হারাবে। সুতরাং সে ক্ষেত্রে আপনাদের জন্য শুভকামনা রইল!’

‘কাজের টোপ’ দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে বাংলাদেশিদের পাঠানো হচ্ছে যুদ্ধে

অপারেশন সল্ট টাইফুন: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বছরের পর বছর ফোন হ্যাক করেছে চীন

ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্রেই ডুবেছিল ‘মস্কোভা’—ভুলে স্বীকার করে ফেলল রাশিয়া

বিদেশে সমালোচকদের শায়েস্তা করতে ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড লিস্ট’ ব্যবহার করছে রাশিয়া

ইউক্রেনকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টির নথি ‘শতভাগ প্রস্তুত’, স্বাক্ষরের অপেক্ষা

সন্দেহভাজন রুশ ট্যাংকারের ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে আটক করল ফ্রান্স

আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়—সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের ঘোষণা মাখোঁর

বিদায়, স্যার মার্ক টালি—যাঁর কণ্ঠে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে জেনেছিল বিশ্ব

সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ মার্কিন মধ্যস্থতার প্রথম রাশিয়া–ইউক্রেন সরাসরি আলোচনা

আফগানিস্তানে সম্মুখযুদ্ধে ছিল না ন্যাটো সেনারা—ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা স্টারমারের