ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্টিন ফিস্টার বলেছেন, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধের যে নীতি রয়েছে, তার পরিপন্থী।
রোববার (৮ মার্চ) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ফিস্টার সুইস সংবাদপত্র সোন্ট্যাগসজিটুং-কে জানান, সুইজারল্যান্ডের মন্ত্রিসভা মনে করে ইরানের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ‘ফেডারেল কাউন্সিলের মতে ইরানের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের শামিল। আমাদের দৃষ্টিতে এটি বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করার নীতির লঙ্ঘন।’
তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাতের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষেরই যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষিত থাকে।
ফিস্টার স্পষ্ট করেন—তিনি এমন সব দেশকেই বোঝাচ্ছেন যারা বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করার নীতি মানছে না। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশাপাশি ইরানও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকাশপথ থেকে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা, ঠিক ইরানের মতোই, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।’
সুইস প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য ইউরোপের আরও কিছু নেতার বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। জার্মানির উপ-চ্যান্সেলর ও অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবেইল জার্মান সংবাদমাধ্যম আরএনডি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মত দেন—এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ কি না তা নিয়ে তাঁর গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা এমন একটি পৃথিবীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি যেখানে কোনো নিয়ম থাকবে না—এমন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করতে চাই না যেখানে শুধু শক্তিশালীদের আইনই কার্যকর হবে।’
এর আগে স্পেনও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলার সমালোচনা করেছে। দেশটি এই হামলাকে ‘বেপরোয়া’ এবং ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা জাতিসংঘ সনদের আগ্রাসনবিরোধী বিধান লঙ্ঘন করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করা হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন দেশ সংঘাত থামিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের মতে, যুদ্ধ চলতে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে পারে সাধারণ মানুষ।