যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর এক সহিংস হামলায় দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২৯ এপ্রিল) উত্তর লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় এক ব্যক্তি রাস্তায় ধাওয়া করে ইহুদিদের ওপর ছুরি হামলার চেষ্টা চালান বলে জানিয়েছে স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থা ‘শোমরিম’। সংস্থাটির সদস্যরা হামলাকারীকে আটক করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, জরুরি সেবাকর্মীরা রাস্তায় পড়ে থাকা এক আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ একাধিক ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, আহত দুই ইহুদি পুরুষ গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী বাসস্টপে কিপা পরিধান করে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে বারবার ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই ঘটনাকে ‘চরম নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই ধরনের হামলা শুধু একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো দেশের নিরাপত্তা ও মূল্যবোধের ওপর আঘাত।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লন্ডনে ইহুদিদের লক্ষ্য করে একাধিক অগ্নিসংযোগ ও সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে এবার নতুন হামলা ঘটল। গত অক্টোবর মাসে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার শহরের একটি সিনাগগে হামলায় দুজন নিহত হয়েছিলেন। চলতি মাসেই ইহুদি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনায় দুই ডজনের বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সর্বশেষ ঘটনায় স্থানীয় এমপি সারা স্যাকম্যান বলেছেন, ‘ব্রিটিশ ইহুদিদের ওপর হামলা মানে পুরো ব্রিটেনের ওপর হামলা। এভাবে তাদের টার্গেট করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের কথাও জানান।
এদিকে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, ইহুদিবিদ্বেষী এসব হামলার পেছনে বিদেশি প্রভাব থাকতে পারে। কিছু ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ইরানপন্থী গোষ্ঠী ‘হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়্যা’। এই পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য সরকার ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্রিটেনে ইহুদিবিদ্বেষী হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।