রাশিয়ায় নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে গণভোট শুরু হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে এই কথিত জরুরি গণভোটের আয়োজন।
এর আগে রাশিয়া-সমর্থিত কর্মকর্তারা শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার (২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর) লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলে গণভোটের ঘোষণা করে। এই চার অঞ্চল ইউক্রেনের ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ, যা ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরির সমান এলাকা।
এই গণভোট নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা করছে রুশপন্থী ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। সম্প্রতি রাশিয়ার আগ্রাসন কিছুটা ধীরগতির হয় এবং পাল্টা আক্রমণের মাধ্যমে রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু অংশ পুনরুদ্ধার করে ইউক্রেন। এর পরই রাশিয়া সমর্থিত কর্মকর্তারা রাশিয়ায় যোগদানের বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন।
গণভোটের পক্ষে রাশিয়ার যুক্তি, এটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য মতামত প্রকাশের একটি বড় সুযোগ। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ভোটে রাশিয়ার পক্ষে ফলাফল অনিবার্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া এই গণভোটের ফলকে জনগণের মতামত হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। পরবর্তীতে এটাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে এই অঞ্চলগুলোকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ করে নেবে। ২০১৪ সালে একইভাবে ক্রিমিয়াকে নিজেদের অধিভুক্ত করে রাশিয়া।
এই গণভোটের পরিকল্পনার সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ফ্রান্স বলছে, তারা এ ধরনের ‘ভুয়া’ ব্যালটের ফলাফলকে কখনোই স্বীকৃতি দেবে না। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলছে পশ্চিমারা। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো বলেছে, গণভোটের এই পরিকল্পনা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়াবে।