জুন মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে রুশ বাহিনীর হামলা তীব্রভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেছেন, মস্কো এসব হামলায় পুরোনো সোভিয়েত আমলের অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনা বেশি ঘটছে। মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অলেক্সি হরমোভ বলেছেন, ‘জুন মাসের দ্বিতীয়ার্ধে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা ওই মাসের প্রথমার্ধের চেয়ে দ্বিগুণ।’
জেনারেল অলেক্সি হরমোভ আরও জানান, এসব হামলায় বেশির ভাগ সময় সোভিয়েত আমলের রিজার্ভ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে বেসামরিক ভবনগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনে মারাত্মক কিছু হামলা হয়েছে। যেমন সোমবার রুশ বাহিনী শিল্প শহর ক্রেমেনচুকের একটি মলে দুটি পুরোনো কেএইচ-২২ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে অপর একটি হামলায় কমপক্ষে ২২ জন মারা গেছেন। গত শুক্রবার ওদেসার কাছে একটি শহরের আবাসিক ভবনে রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শত শত।
তবে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা শুধু সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি এস পেশকভ শুক্রবার তাঁর নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রুশ বাহিনী শুধু অস্ত্রের ডিপো, সামরিক সরঞ্জাম তৈরি ও মেরামতের কারখানা এবং সেনা প্রশিক্ষণের স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আঘাত করে।
রাশিয়া অস্বীকার করলেও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, থিয়েটার, শপিং মল ও হাসপাতালে হামলা করতে দেখা গেছে।