হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় জামাতার পর স্ত্রীকেও নামিয়েছেন ট্রাম্প, শিগগির চুক্তির আশা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

এক মঞ্চে ট্রাম্প, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া এবং জামাতা কুশনার। ছবি: আনাদোলু

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রচলিত রাষ্ট্রীয় কূটনীতির পাশাপাশি এবার শান্তি প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মেলানিয়ার মধ্যস্থতার পর এবার হোয়াইট হাউসে রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের বিরল সরাসরি উপস্থিতি দেখা গেছে।

একই সময়ে পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। যুদ্ধ অবসানে শিগগিরই একটি বড় চুক্তি হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতা করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদলের।

স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বৈঠক করেছেন তিনি। এর আগে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজনে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা যায় দিমিত্রিয়েভকে। তবে দিমিত্রিয়েভের সঙ্গে বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ করেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে।

ট্রাম্পের ভাষায়, যুদ্ধের অবসান প্রায় কাছাকাছি এবং এ বিষয়ে সম্ভাব্য চুক্তিতে শুধু ইউক্রেন নয়, ইউরোপের সব দেশও যুক্ত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি একটি বড় চুক্তি হতে যাচ্ছে এবং এতে শুধু ইউক্রেনই নয়, আরও অনেক কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এমনকি আমি বলতে পারি, এতে পুরো ইউরোপও যুক্ত থাকতে পারে। এটি হবে একটি বড় ও চমৎকার চুক্তি, যাতে সবাই আনন্দিত হবে।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে বিবেচিত ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে সমঝোতা আসন্ন বলে ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা গতি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নিজের কোনো বৈঠক হয়নি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেন, ন্যাটো ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং ইউরোপের বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ‘ফলপ্রসূ ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার বলেন, আলোচকেরা পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। এগুলো হলো—স্থায়ী নিরাপত্তা পরামর্শব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য সংকটকালীন যোগাযোগব্যবস্থা, সামরিক কর্মকাণ্ডে অধিকতর স্বচ্ছতা, উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমাতে পারস্পরিক পদক্ষেপ এবং ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি টেকসই কাঠামো প্রতিষ্ঠা।

কুশনার বলেন, যেকোনো সমঝোতায় প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সম্মান করতে হবে। প্রতিটি দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও জোটসংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কর্তৃত্ব বজায় রাখবে। কোনো দেশই অন্য কোনো দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর ভেটো দেওয়ার অধিকার পাবে না।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের সম্মিলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ন্যাটোই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। প্রস্তাবিত উদ্যোগ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান ও প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠবে।

মেলানিয়ার উদ্যোগে রুশ-ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের বিরল বৈঠক

রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করেছিলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রোববার শেষ হয়েছে। যুদ্ধবিরতি উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বিরল অনুষ্ঠানে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা সরাসরি অংশ নেন। রাশিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ।

অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের পরিবর্তে মানবতাকে বেছে নিয়েছি। ওলেশকিতে আমরা যে সাহস দেখিয়েছি, নিরপরাধ মানুষের দুর্ভোগের প্রতি অভিন্ন উদ্বেগকে সামনে রেখে সেই সাহস কাজে লাগিয়ে আমাদের অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করতে হবে।’

মেলানিয়া জানান, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে তিনি যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে আকাশ থেকে তোলা ছবি পর্যালোচনা করা এবং সড়ক যোগাযোগ ও হাসপাতালে প্রবেশের সুযোগ-সুবিধা মূল্যায়নের বিষয়টিও ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও ওলেশকির যুদ্ধবিরতিতে স্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত অক্টোবর মাসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘তিনি আমাদের পেশাদার কর্মকর্তাদের চেয়েও ভালো কাজ করেন।’

অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা ডেভিড আরাখামিয়া এবং দেশটির মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎসও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা স্লোভেনীয় বংশোদ্ভূত মেলানিয়া ট্রাম্পকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দুই পক্ষই ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদস্বরূপ উপহার দেয়। রাশিয়ার প্রতিনিধি দিমিত্রিয়েভ ওলেশকির এক শিশুকন্যার আঁকা গোলাপি হৃদয়ের একটি ছবি মেলানিয়াকে উপহার দেন। তিনি জানান, শিশুটি ‘রাশিয়ায় তার পরিবারের সঙ্গে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে’। রাশিয়ায় বাস্তুচ্যুত ইউক্রেনীয় শিশুদের নিয়ে চলমান বিরোধের প্রতি ইঙ্গিত করেই তিনি এ কথা বলেন। ছবিটিতে লেখা ছিল, ‘আমি মেলানিয়াকে ভালোবাসি।’

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা মেলানিয়া ট্রাম্পকে একটি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করেন। সম্মাননাপত্রে লেখা ছিল, ‘আপনার সাহসী হৃদয়ের জন্য, আমাদের জনগণকে রক্ষা করার জন্য এবং ইউক্রেনীয় শিশুদের ফিরিয়ে আনার জন্য।’ এ সময় মেলানিয়া ট্রাম্প সফররত দুই দেশের প্রতিনিধিদলের হাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উদ্দেশে লেখা চিঠি তুলে দেন।

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নে দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড—সাজা ঘোষণা ৯ নভেম্বর

ইউরোপজুড়ে অন্তত ২৫ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি

হাতে ছাতা আর কালো পোশাকে পোপের বাড়ি গেলেন বব ডিলান

ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত বেড়ে ৪০, মস্কো-কিয়েভ আলোচনা ১০ নভেম্বর

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা: ৬৯ প্রাণহানির ছয় দিন পর পরিবহনমন্ত্রীর পদত্যাগ

ইউরোপে সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

হ্যাকারের দখলে ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপ, পারমাণবিক হামলার ভুয়া বার্তা

অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংসের পর হিটলারের ঐতিহাসিক ‘ইগলস নেস্ট’ নিয়ে নতুন বিতর্ক

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণসাগরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু, কে দায়ী