জন্মসালভিত্তিক ধূমপান নিষিদ্ধ করার একটি নতুন আইন প্রণয়নের পথে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এটি পাস হলে ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পর জন্ম নেওয়া কেউই জীবনে কখনো বৈধভাবে সিগারেট কিনতে পারবেন না। দেশটির পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর রাজকীয় সম্মতি পেলেই বিলটি শিগগিরই আইনে পরিণত হবে।
‘টোবাকো অ্যান্ড ভেপস বিল’ ২০২৪ সালে প্রথম উত্থাপন করেছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তিনি তখন বলেছিলেন, প্রতি বছর ধূমপানের ন্যূনতম বয়স এক বছর করে বাড়ানো হবে। ফলে আজকের কিশোর প্রজন্ম কখনোই বৈধভাবে সিগারেট কিনতে পারবে না এবং ধীরে ধীরে একটি ‘ধূমপানমুক্ত প্রজন্ম’ গড়ে উঠবে। বর্তমানে লেবার পার্টির অধীনে এই বিল আইনে পরিণত হওয়ার পথে।
এই পদক্ষেপের পেছনে মূল লক্ষ্য জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন। যুক্তরাজ্য সরকার ২০১৯ সালেই ২০৩০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডকে ‘স্মোক-ফ্রি’ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। এই লক্ষ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট জনসংখ্যার মধ্যে ধূমপানের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের অধীনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যনীতি হিসেবেও বিবেচিত। গত ৩৫ বছরে ব্রিটেনে ধূমপানের হার অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে পাবলিক স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা এবং ২০১৬ সালে সিগারেটের সাধারণ প্যাকেজিং চালুর মতো পদক্ষেপগুলো এই অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবু ধূমপান এখনো অসুস্থতা ও অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর প্রভাব বেশি।
তবে এই আইন নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস একে ‘রাষ্ট্র সব জানে’ ধরনের হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী। একইভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক’ বলেও মন্তব্য করেছেন। সমালোচকদের মতে, এতে কালোবাজার তৈরি হতে পারে এবং সরকারের রাজস্ব কমতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নিউজিল্যান্ড ২০২২ সালে একই ধরনের একটি আইন চালু করলেও পরে তা বাতিল করে। অন্যদিকে মালদ্বীপ ২০২৫ সালে ২০০৭ সালের পর জন্ম নেওয়াদের জন্য এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে।
এ ছাড়া নতুন এই আইনে ভেপিং বা ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণেও কঠোর বিধিনিষেধের প্রস্তাব রয়েছে। কেউ কেউ ভেপিং বা ই-সিগারেটকে কম ক্ষতিকর বিকল্প হিসেবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—ভেপিংও পুরোপুরি নিরাপদ নয় এবং এটি ধূমপান ছাড়ার কার্যকর সমাধান হিসেবে এখনো নিশ্চিত নয়।