ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বিরোধিতার মুখে কট্টর ইসলামবিদ্বেষী মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেন্টিনা গোমেজকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। আজ সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ব্রিটিশ দৈনিক দি ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আগামী ১৬ মে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে কট্টর ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন (আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন) আয়োজিত ‘ইউনাইট দি কিংডম’ র্যালিতে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল গোমেজের। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গোমেজ দাবি করেছিলেন, তিনি যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) লাভ করেছেন। তবে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোমেজের উপস্থিতি ‘জনস্বার্থের জন্য ভালো হবে না’।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের অধিকার মানেই ঘৃণা এবং চরমপন্থা ছড়ানো নয়। একই অভিযোগে চলতি মাসের শুরুর দিকে জনপ্রিয় মার্কিন র্যাপার কেনি ওয়েস্টকেও (বর্তমানে ‘ইয়ে’ নামে পরিচিত) যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কেনি ওয়েস্টের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য এবং নাৎসি প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট পদে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হওয়া ২৬ বছর বয়সী গোমেজ তাঁর ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। তিনি পবিত্র কোরআনে আগুন দেওয়া এবং ক্ষমতা পেলে টেক্সাস থেকে এই ধর্ম নির্মূল করার শপথ নিয়েছিলেন। একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা যদি চিরতরে ইসলাম প্রচার বন্ধ না করি, তবে আপনাদের কন্যারা ধর্ষিত হবে এবং ছেলেদের শিরশ্ছেদ করা হবে।’ এ ছাড়া তিনি মুসলিমদের উদ্দেশ্যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তাঁদের বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের যেকোনো একটিতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে ১৬ মে’র ওই র্যালিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব শ্যারন ওসবোর্নের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা ব্রিটিশ চ্যারিটি ‘সেন্টারপয়েন্ট’। ১৭ এপ্রিল দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী। সেন্টারপয়েন্ট স্পষ্ট করেছে, ভবিষ্যতে শ্যারনের সঙ্গে কাজ করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে আয়োজিত একই ধরনের একটি র্যালিতে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল। সেখানে গোমেজ ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য রেখেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে ইলন মাস্কও দূর থেকে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন, যার কড়া সমালোচনা করেছিল ব্রিটিশ সরকার।