আগামী ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। গতকাল বৃহস্পতিবার সাইপ্রাসের নিকোসিয়ায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে তিনি দুই দিনের সাইপ্রাস সফরে রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে মাখোঁ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না এবং দায়িত্ব ছাড়ার পরও আমি আর রাজনীতিতে থাকব না।’
২০১৭ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে ফ্রান্সের কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় এসেছিলেন মাখোঁ। ২০২২ সালে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন। ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী তিনি টানা তৃতীয়বার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। যদিও গত ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্যারিসে এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ‘দুই বছর, পাঁচ বছর বা দশ বছর পরও আপনাদের আমার প্রয়োজন হবে।’ তাঁর সেই বক্তব্যকে অনেকে ২০৩২ সালের নির্বাচনে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে দেখেছিলেন। তবে আজকের মন্তব্যের মাধ্যমে সেই জল্পনার অবসান ঘটল।
নয় বছরের শাসনকাল নিয়ে মাখোঁ বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো নিজের কাজের রেকর্ড রক্ষা করা। কখনো কখনো আপনার ভালো কাজগুলো ধরে রাখতে হয় এবং ভুলগুলো সংশোধন করতে হয়।’
তাঁর মেয়াদের সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল অবসরের বয়স ৬২ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করা। তবে ২০২৪ সালের জুনে আগাম নির্বাচনে তাঁর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এই আইনটি বর্তমানে ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।
নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থীদের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন মাখোঁ। তাঁর এই একতরফা সিদ্ধান্ত নিজের দলের ভেতরেও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। ২০২৫ সালের নববর্ষের ভাষণে তিনি নিজেও স্বীকার করেছিলেন, তাঁর এই সিদ্ধান্ত ফরাসি জনগণের জন্য কোনো সমাধানের বদলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ডেকে এনেছে।
ফ্রান্সের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টই একবার বিদায় নেওয়ার পর আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারেননি। মাখোঁও সেই পথেই হাঁটছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রাজনীতি ছাড়ার পর তিনি কী করবেন, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি।