গত বছর মাত্র ৭ মিনিটে প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে চুরি হয়ে যায় ফরাসি রাজমুকুট ও রত্নসহ ৮৮ মিলিয়ন ইউরোর বেশি মূল্যের গয়না। এ ঘটনার জেরে পদত্যাগ করলেন জাদুঘরটির পরিচালক লরেন্স দে কার্স। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।
পরিচালক লরেন্স দে কার্সের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে মাখোঁ বলেন, জাদুঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আধুনিকায়নের মতো বড় প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য এখন ‘শান্ত পরিবেশ ও নতুন উদ্যম’ প্রয়োজন।
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনা লিসা’র আবাসস্থল এই ল্যুভর মিউজিয়ামে প্রতি বছর ৮৭ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী ভিড় করেন। ল্যুভরের প্রথম নারী পরিচালক ২০২১ সালে হিসেবে দায়িত্ব নেন লরেন্স দে কার্স।
এই চুরির কয়েক দিন পর লরেন্স দে কার্স স্বীকার করেন, জাদুঘরের চারপাশের সিসিটিভি ব্যবস্থা দুর্বল ও ‘পুরোনো’। এমনকি চোরেরা যে দেয়াল দিয়ে ভেতরে ঢুকেছিল, সেখানে থাকা একমাত্র ক্যামেরাটি ব্যালকনির উল্টো দিকে মুখ করা ছিল। ফলে গ্যালারি অব অ্যাপোলোতে পৌঁছানোর পথটি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে থেকে যায়।
কার্স জানান, তিনি সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা দ্বিগুণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট স্বল্পতার কারণে নিরাপত্তার আধুনিকায়ন ধীরগতিতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিরাপত্তার এই ব্যর্থতা নিয়ে সংসদীয় তদন্ত চলছে। আগামী মে মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকলেও গত সপ্তাহে একটি প্রাথমিক রিপোর্টে এই চুরির পেছনে ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতা’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু চুরিই নয়, সম্প্রতি টিকিট জালিয়াতি এবং জাদুঘরের ভেতরে পানি চুইয়ে পড়ার (ওয়াটার লিক) মতো একাধিক সমস্যাও সামনে এসেছে।
যেভাবে ঘটেছিল সেই দুর্ধর্ষ চুরি
গত বছরের ১৯ অক্টোবর ভোরে চুরির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। একটি যান্ত্রিক লিফট চুরি করে সেটি ব্যবহার করে সিন নদীর পাশের একটি ব্যালকনি দিয়ে জাদুঘরে প্রবেশ করে চোরেরা। এই ঘটনায় চারজন প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও চুরি যাওয়া ৮টি মূল্যবান রত্ন এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
যে গয়নাগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ কোটি ৮০ লাখ ইউরো বা প্রায় ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।
চুরি হওয়া গয়নাগুলোর মধ্যে রয়েছে সম্রাট নেপোলিয়নের তাঁর স্ত্রীকে উপহার দেওয়া একটি হীরা ও পান্নাখচিত নেকলেস।
পালানোর সময় চোরেরা ১৯ শতকের একটি হীরাখচিত মুকুট ফেলে যায়, যা সম্রাজ্ঞী ইউজেনির ছিল। এতে মুকুটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি মাসের শুরুতে ল্যুভর কর্তৃপক্ষ সেই ক্ষতিগ্রস্ত মুকুটের প্রথম ছবি প্রকাশ করে জানায়, এটি ‘প্রায় অক্ষত’ আছে এবং মেরামত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন—