হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

আকাশে শক্তি দেখাচ্ছে ইউক্রেন—বিব্রত, বিরক্ত রাশিয়া

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বলছে রাশিয়া টুয়াপসে তেল শোধনাগার। ছবি: আল-জাজিরা

ইউক্রেন ধীরে ধীরে একটি উদীয়মান আকাশ-শক্তি হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে শুরু করেছে, যা রাশিয়াকে ক্রমেই অস্বস্তিতে ফেলছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন তাদের উন্নত ড্রোন ও দূরপাল্লার হামলা প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাশিয়ার তেল সংরক্ষণাগার, বন্দর ও শোধনাগারে গভীর আঘাত হেনেছে। এমনকি সীমান্ত থেকে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাশিয়ার উরাল অঞ্চলের পার্ম শহরেও হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি এই অভিযানকে ‘রাশিয়ার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার নতুন ধাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) জানায়, তারা ট্রান্সনেফটের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাম্পিং ও সরবরাহ কেন্দ্রে আঘাত করেছে, যা রাশিয়ার তেল পরিবহন ব্যবস্থার একটি কৌশলগত কেন্দ্র। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই স্থাপনার বেশির ভাগ তেল ট্যাংকে আগুন লেগেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন অঞ্চলে ৯৮টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই হামলাগুলোকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার কর্মকর্তারা নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের এই হামলার লক্ষ্য রাশিয়ার তেল রপ্তানি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতার কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার আয় বাড়ছিল—সেটিকে আঘাত করাই এই কৌশলের উদ্দেশ্য। ইউক্রেন দাবি করেছে, হামলার জেরে রাশিয়ার প্রধান তেল বন্দরগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, বাল্টিক সাগরের প্রিমোরস্ক ও উস্ত-লুগা বন্দরের সক্ষমতা যথাক্রমে ১৩ ও ৪৩ শতাংশ কমেছে, আর কৃষ্ণসাগরের নভোরোসিস্ক বন্দরে কমেছে ৩৮ শতাংশ।

ভ্লাদিমির পুতিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সেবা মন্ত্রী আলেক্সান্ডার কুরেনকভকে সরাসরি তদারকির দায়িত্ব দিয়েছেন। এদিকে, সামরিক পরিস্থিতির কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবসের প্যারেডে কিছু সামরিক অংশগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে রাশিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের সম্ভাব্য ড্রোন হামলার আশঙ্কায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ জানিয়েছে, এপ্রিল মাসেই রাশিয়ার অন্তত ১৮টি তেল অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলাগুলো ক্রমেই দূরত্ব, সংখ্যা ও তীব্রতায় বাড়ছে এবং রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে বড় প্রভাব ফেলছে।

একই সঙ্গে ইউক্রেন নিজেদের সামরিক প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত করছে। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক কর্মকর্তা মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, তারা প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যয় করছে। ইউক্রেনের একটি ড্রোন কোম্পানি দাবি করেছে, তারা ২,০০০ কিলোমিটার দূরত্বেও ড্রোন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।

ইউক্রেন এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও তাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি রপ্তানির চেষ্টা করছে। সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই নতুন সম্পর্কগুলো রাশিয়াকে বিশেষভাবে বিরক্ত করছে। এমনকি কিছু মিত্র দেশও ইউক্রেনের বাড়তে থাকা স্বনির্ভরতা নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইউক্রেন এখন শুধু প্রতিরক্ষায় নয়, আক্রমণাত্মক সক্ষমতায়ও নতুন এক অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে—যা চলমান যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ফের ইরানে হামলা হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ: ট্রাম্পকে পুতিনের হুঁশিয়ারি

লন্ডনে দুই ইহুদিকে ধাওয়া করে ছুরিকাঘাত

চুরি করা ইউক্রেনের শস্য ইসরায়েলের কেনা অবৈধ: জেলেনস্কি

যুক্তরাষ্ট্রকে অপদস্থ করেছে ইরান: জার্মান চ্যান্সেলর

ইরান ও ওই অঞ্চলের দেশগুলোর স্বার্থে রাশিয়া সবকিছু করবে: পুতিন

যুদ্ধকে রাশিয়ার ভেতরে পাঠিয়ে দিতে চান ইউক্রেনের ড্রোন কমান্ডার

ট্রাম্পকে তুষ্ট করতে ‘ডনিল্যান্ড’ তৈরির প্রস্তাব ইউক্রেনীয়দের

২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ করে আইন পাসের পথে যুক্তরাজ্য

খাবার ও পানির অভাবে কঙ্কালসার ইউক্রেনীয় সেনারা, শীর্ষ কমান্ডার বরখাস্ত

ন্যাটো থেকে স্পেনকে বাদ ও যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের