হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৬৮, আহত শতাধিক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এএফপি

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে দুটি উচ্চগতির (হাই-স্পিড) ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৮ জনে। এতে আহত হয়েছেন ১৭৯ জনেরও বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভয়াবহ এই রেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইরিও কোম্পানির একটি ট্রেনের পেছনে একই রুটে আসা রাষ্ট্রীয় সংস্থা রেনফে-র একটি দ্রুতগতির ট্রেন আনুমানিক ২০০ কিলোমিটার গতিতে সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুটি ট্রেনের কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে লাইন থেকে নিচে গড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর আগেই কেন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দ্বিতীয় ট্রেনটিকে পুনরায় চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এটি বড় ধরনের মানবীয় ত্রুটি এবং ট্রেনচালকদের এতে কোনো ভুল ছিল না।

স্পেনের প্রধান রেল পরিচালনকারী সংস্থা আদিফ ও পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিগন্যালিং ব্যবস্থা সচল না থাকা অবস্থায় ম্যানুয়ালি ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্তই এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ডেকে আনে।

দুর্ঘটনাকবলিত দুই ট্রেনে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনার পর পরই স্থানীয় বাসিন্দা, উদ্ধারকারী দল, হেলিকপ্টার এবং সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে পড়ে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী উর্দা শহরের একটি স্পোর্টস হলকে অস্থায়ী চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, কয়েক মাসের ব্যবধানে দুটি দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। তাঁর দল সোশ্যালিস্ট পার্টি নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমও স্থগিত করেছে।

আগামী ২৯ নভেম্বর স্পেনে আগাম সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে সানচেজের সরকার বিভিন্ন জনমত জরিপে চাপের মুখে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পিপলস পার্টির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহুও প্রচার স্থগিত করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশের অবকাঠামোর কী হচ্ছে, তা জানার অধিকার স্পেনের জনগণের রয়েছে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। স্পেনের রাজপরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় শোক প্রকাশ করেছে।

স্পেনে ২০১৩ সালে সান্তিয়াগো দে কমপোস্তেলার কাছে একটি ট্রেন বাঁক নেওয়ার সময় লাইনচ্যুত হয়ে ৮০ জন নিহত হয়েছিলেন। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদামুজ দুর্ঘটনাটি ছিল দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা। এবার মাদ্রিদের দক্ষিণে নতুন এই দুর্ঘটনা দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিল।

স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৪

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৩০

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ১০

সার্বিয়ায় স্বৈরশাসকের পতনের পর ছাত্রদের তোপের মুখে গণমাধ্যম, ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ খবরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা

ইউরোপের নেতারা ‘রাজনৈতিক মর্ষকামী’: লাভরভ

মেলানিয়া, নাকি পোপ—কার মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামল ওলেশকিতে

হঠাৎ সতর্কতায় যুক্তরাজ্যে পানি, ক্যানজাত খাবার ও রেডিও কিনতে ক্রেতাদের ভিড়

সার্বিয়ায় ১৪ বছরের ‘স্বৈরশাসনের’ পতন: সরকার গঠন ও আমলাতন্ত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে নেতৃত্বহীন ছাত্ররা

পুতিনের প্রাসাদ ঘিরে ৫০ আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট, নতুন করে বসানো হয়েছে ১৫টি

সার্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভুচিচের পতন, নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের বিপুল জয়