মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে কাটানো সময়টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য বেশ আলোচনারই বলা চলে। এর মধ্যে চিনপিং তাঁর ব্যক্তিগত বাগানে নিয়ে গেলেন ট্রাম্পকে। এই বিরল দৃশ্য আলোড়ন তুলেছে সবার মাঝেই। কারণ চীনের গণমাধ্যমে সি চিনপিংকে সাধারণত পূর্বপ্রস্তুতকৃত লিখিত বক্তব্য ছাড়া দেখা যায় না বললেই চলে। এর মধ্যে জানা গেল, ব্যক্তিগত বাগানে ভ্রমণকালে চীনের প্রেসিডেন্ট তুলেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথা।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চীনের শীর্ষ নেতাদের সুরক্ষিত সরকারি বাসভবন ‘ঝংনানহাই’ চত্বরে ট্রাম্পের সঙ্গে দোভাষীর মাধ্যমে খোশগল্প করছেন প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। একটি তোরণ পার হওয়ার সময় ট্রাম্প যেন হোঁচট না খান, সেজন্য হাত বাড়িয়ে পথ দেখিয়ে দেন এবং সিঁড়ির দিকে ইশারা করেন সি।
হাঁটার ফাঁকে চীনের এই নেতা থমকে দাঁড়ান এবং পুরোনো একটি গাছ দেখিয়ে বলেন, এই গাছটির বয়স একশত বছরেরও বেশি। তিনি আরও জানান, এটি মূলত দুটি গাছ, যা একসময় একসঙ্গে মিশে গেছে। দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সি চিনপিং যে আহ্বান জানিয়ে আসছেন, এটি হয়তো তারই এক প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত।
ট্যুরের মাঝেই ট্রাম্প আকস্মিক এক প্রশ্ন ছুড়ে দেন, সি চিনপিং কি প্রায়ই বিদেশি নেতাদের এই ঝংনানহাইয়ে নিয়ে আসেন? মাথা নেড়ে বেশ জোর দিয়েই সি চিনপিং উত্তর দেন, ‘খুব কমই আনা হয়।’
এরপর ট্রাম্পের দিকে ইশারা করে মৃদু হেসে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পুতিন এখানে এসেছিলেন।’
তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ২০২৪ সালের চীন সফরের কথা তুলে ধরেন। পুতিন বেইজিংয়ের বেশ ঘনিষ্ঠ অংশীদার। তিনি সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ঝংনানহাইয়ের বাগানেই চা চক্রে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেখানে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন।
সি চিনপিং বাগানের আরও বেশ কিছু প্রাচীন গাছ ট্রাম্পের কাছে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখান। চীনের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন।
পরিদর্শন শেষে ট্রাম্প জানান, শীর্ষ নেতাদের এই সুরক্ষিত এলাকাটি তাঁর কতটা পছন্দ হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘এরকম পরিবেশের সঙ্গে আমি সহজেই মানিয়ে নিতে পারব।’
দুই নেতার অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এই শীর্ষ সম্মেলনের মাঝে এটি ছিল অন্যতম এক অলিখিত ও স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত।