মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বেইজিং ত্যাগ করেছেন। এই সফরে তিনি দুই দফায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাণিজ্য ইস্যু ছাড়াও ইরান ও তাইওয়ানের মতো আলোচিত দুই ইস্যুতে এই দুই নেতার মধ্যে স্পষ্ট কোনো ঐকমত্য হয়েছে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সোজা কথায় ইরান ও তাইওয়ান ইস্যুতে কোনো ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই ট্রাম্পের সফর শেষ হয়েছে।
আজ শুক্রবার বেইজিংয়ে সির দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শুরুর আগে ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে শীর্ষ সম্মেলনকে ‘এখন পর্যন্ত সফল’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ইরানের যুদ্ধের অবসান এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত দেখতে চান।
ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে ভূমিকা রাখার প্রস্তাবও দিয়েছেন সি। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট সি একটি চুক্তি দেখতে চান। তিনি সত্যিই একটি চুক্তি হতে দেখতে চান এবং তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারি, তাহলে আমি এতে যুক্ত হতে চাই।’
চীনের ইরানি তেল ক্রয়ের বিষয়টি টেনে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘দেখুন, যে দেশ এত বেশি তেল কিনছে, তাদের স্পষ্টতই কোনো না কোনো সম্পর্ক আছে। কিন্তু তিনি বলেছেন, আমি যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারি, তাহলে আমি সাহায্য করতে চাই।’
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি টিকে আছে। তবে আলোচনায় এখনো স্থায়ী কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা দূরবর্তী। এই অবস্থায় চীনের তরফ থেকে ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি না আসার বিষয়টি আসলে ধোঁয়াশা তৈরি করে।
যদিও ট্রাম্প বলেছেন, ইরান প্রসঙ্গে দুই নেতার ‘দৃষ্টিভঙ্গিতে খুবই মিল’ রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি সি। আজ শুক্রবার সকালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান যুদ্ধ ‘কখনো হওয়াই উচিত ছিল না।’
সি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার ‘এই সফরের মাধ্যমে আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন, গঠনমূলক কৌশলগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একে সত্যিকার অর্থেই একটি মাইলফলক ঘটনা বলা যেতে পারে।’ সির তরফ থেকে এই ধরনের কথা বলা হলেও তাতে তাইওয়ান বা ইরান ইস্যুতে কোনো বক্তব্য ছিল না। আবার ট্রাম্পও তাইওয়ান নিয়ে কিছু বলেননি। এর আগের দিন গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যু সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে বলেন। অন্যথায় সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়বে বলেও হুমকি দেন তিনি।
মার্কিন থিংকট্যাংক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ফেলো প্যাট্রিসিয়া কিম বলেন, ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে বেইজিং জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করেছে, যা বিশেষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আকৃষ্ট করার মতো করেই সাজানো হয়েছিল। তবে প্রাথমিক বার্তাগুলো দেখাচ্ছে, দুই পক্ষের অগ্রাধিকারের জায়গায় এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।
কিম বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা এটাও তুলে ধরেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই একমত যে ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাওয়া উচিত নয় এবং হরমুজ প্রণালি খোলা থাকা উচিত।’
প্যাট্রিসিয়া কিম আরও বলেন, ‘যে বিষয়টি উল্লেখযোগ্য, তা হলো ইরান প্রসঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে চীনের কোনো প্রতিশ্রুতি নেই।’ তাঁর ভাষায়, ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য নতুন কাঠামো নিয়ে চীনের বিবৃতি এবং তাইওয়ান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমাকে সম্মান করার দাবি বিশেষভাবে লক্ষণীয়।’
তথ্যসূত্র: রয়টার্স