চীনের হুনান প্রদেশে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ২১ জন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে জানা যায়, এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬১ জন। আহতদের বয়স ২০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে লিউইয়াং শহরের ‘হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস’ কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার পর কারখানাটির তিন কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উদ্ধার অভিযানে প্রায় ৫০০ কর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। ভবনের ভেতরে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করতে রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট আতশবাজি কোম্পানির বিরুদ্ধে ‘নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়া হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান চালানোর সময় কারখানার ভেতরে থাকা দুটি বারুদ ভর্তি গুদাম ছিল। এ সময় কোনো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য পুরো এলাকায় পানি ছেটানো হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিস্ফোরণটি এত তীব্র আঘাত করেছিল যে পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকার ঘরবাড়ির জানালার কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অনেকের হাড় ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কারখানা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী এক বাসিন্দা বেইজিং নিউজকে জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় রাস্তায় পাথর ছিটকে পড়ায় গ্রামবাসীদের বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে, অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেম দুমড়ে-মুচড়ে গেছে, এমনকি স্টেইনলেস স্টিলের দরজাও বাঁকা হয়ে গেছে।’
অনেকে আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানান আরেক বাসিন্দা।
উল্লেখ্য, লিউইয়াং শহরটি আতশবাজি তৈরির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এবং এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম আতশবাজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চীনে আতশবাজি কারখানা বা দোকানে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানি নতুন নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে হুবেই প্রদেশের একটি আতশবাজির দোকানে বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত হন।